ঢাকা   শুক্রবার ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধে ৮১ মার্কিন বিমান-ড্রোন-হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত, ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলার

বিশেষ প্রতিবেদন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:৫৭, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

ইরান যুদ্ধে ৮১ মার্কিন বিমান-ড্রোন-হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত, ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলার

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অন্তত ৮১টি যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)। ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ স্টিলথ যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে বিপুলসংখ্যক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনও রয়েছে।

সিআরএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের। অন্তত ৪৫টি রিপার ধ্বংস হয়েছে। প্রতিটি ড্রোনের আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার। ফলে শুধু এই ড্রোনগুলোর ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্যই কয়েকশ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।

এই ক্ষয়ক্ষতির কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বহরে রিপার ড্রোনের সংখ্যা কমে প্রায় ১৩৫টিতে নেমে এসেছে। নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এসব ড্রোন ব্যবহার করা হয়। গত মে মাসে বিমানবাহিনীর এক জেনারেল মার্কিন সিনেটকে এ তথ্য জানিয়েছিলেন। এয়ারফোর্স টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিমানবাহিনীর কাছে সাধারণত যেকোনো সময়ে অন্তত ১৮৯টি মোতায়েনযোগ্য রিপার ড্রোন থাকার কথা।

এফ-১৫ যুদ্ধবিমানেও বড় ক্ষতি

ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এর ঘটনায় ভূপাতিত হয়। প্রতিটি বিমানের মূল্য ৩ কোটি ডলারের বেশি।

এর পরের মাসে ইরানের আকাশে আরও একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এছাড়া গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলার সময় আরও আটটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান হালকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সিআরএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এসব বিমান মেরামতের মাধ্যমে আবার ব্যবহারে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এফ-৩৫এও

ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ স্টিলথ যুদ্ধবিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ১৯ মার্চের হামলায় বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমানের মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি।

সিআরএসের হিসাবে, ইরান যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের তালিকায় পুরোনো হলেও গুরুত্বপূর্ণ ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমানও রয়েছে। প্রায় ২৭ কোটি ডলার মূল্যের একটি ই-৩ সেন্ট্রি হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বোয়িং ৭০৭ উড়োজাহাজের ভিত্তিতে তৈরি এই বিমান দীর্ঘদিন ধরে আকাশপথে নজরদারি ও কমান্ড ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের ৩২টি বিমান সচল ছিল বলে বিমানবাহিনীর তথ্য উল্লেখ করেছে সিআরএস।

এছাড়া এপ্রিল মাসে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ গ্রাউন্ড-অ্যাটাক বিমান হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সেপ্টেম্বরে জর্ডানে ইরানের হামলায় আরও একটি এ-১০ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজের তালিকা

  • ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান
  • ১টি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ স্টিলথ যুদ্ধবিমান
  • ২টি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ অ্যাটাক জেট
  • ৭টি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার
  • ১টি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান
  • ২টি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ বিশেষ অভিযান বিমান
  • ১টি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২ কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ হেলিকপ্টার
  • ১টি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন উচ্চ-উচ্চতার দীর্ঘস্থায়ী ড্রোন
  • ৩টি এমকিউ-১ মাল্টি-রোল ড্রোন
  • ১টি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার
  • ৪টি এএইচ-৬ লিটল বার্ড লাইট অ্যাটাক হেলিকপ্টার
  • ১টি এমএইচ-৬০ সি হক মেরিটাইম হেলিকপ্টার
  • ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন

সব মিলিয়ে তালিকাভুক্ত ৩৬টি বিমান ও হেলিকপ্টারের সঙ্গে ৪৫টি রিপার ড্রোন যোগ হয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া সামরিক উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়ায় অন্তত ৮১টি। সিআরএসের হিসাবে, এসব ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার।

সর্বশেষ