শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সহিংসতা ও ভয়ভীতির ঘটনা ঘটায় ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সভা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় ওই বোর্ড মিটিং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি নির্দেশে বাতিল করা হয়। ব্যাংকের কোম্পানি সচিব স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক নোটিশে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এমডির পুনঃনিয়োগ ঘিরে সহিংসতা
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন ব্যাংকটির বর্তমান এমডি মো. হাবিবুর রহমানের পুনঃনিয়োগ। এ ইস্যুকে ঘিরে গত ২১ জানুয়ারি ঢাকা ও চট্টগ্রামে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর ধানমন্ডিতে ব্যাংকের এক পরিচালকের বাসভবনের সামনে গুলি ছোঁড়া হয় এবং তাঁকে বোর্ড সভায় উপস্থিত না থাকার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের নির্দেশনা
এর আগে ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংককে স্পষ্টভাবে জানায়—
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলমান তদন্তের কারণে পর্ষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন ছাড়া এমডি হাবিবুর রহমানকে পুনঃনিয়োগ দেওয়া যাবে না।
নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ
অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় ভোট নিশ্চিত করতে ১৮ জানুয়ারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ নিয়মবহির্ভূতভাবে স্বতন্ত্র পরিচালক গোলাম হাফিজ আহমেদকে অপসারণ করেন।
নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া কোনো স্বতন্ত্র পরিচালক অপসারণ আইনসম্মত নয়। জানা গেছে, গোলাম হাফিজ আহমেদ এমডির পুনঃনিয়োগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
এছাড়া, সভার ঠিক আগের রাতে পুনঃনিয়োগের বিরোধী অবস্থানে থাকা আরেক পরিচালককে পুরনো মামলায় ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে, যা পর্ষদে বিরোধী মত আরও দুর্বল করে দেয়।
ধানমন্ডিতে ভয়ংকর হামলা
পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় যখন ধানমন্ডিতে পরিচালক অশোক কুমার সাহার বাসভবনের সামনে মোটরসাইকেলে আসা চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি
কেয়ারটেকারের মাথায় পিস্তল ঠেকায়
একটি খাম দিয়ে যায়
ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে
সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে হার্ডডিস্ক নিয়ে যায়
খামে থাকা চিঠিতে অশোক কুমার সাহাকে বোর্ড সভায় যোগ দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় দেখানো হয়।
এই ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে।
সুশাসনের জন্য বড় হুমকি
ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমডি নিয়োগকে ঘিরে এমন সহিংসতা নজিরবিহীন এবং এটি সুশাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি।
তাঁদের মতে, বোর্ডরুমের দ্বন্দ এখন রাজপথে নেমে আসায় পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তার বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখবে।
তবে এই বিষয়ে ব্যাংকের বর্তমান এমডি মো. হাবিবুর রহমান ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
























