শেয়ারবাজারের এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের স্বল্প মূলধনী কোম্পানি মোস্তফা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে লভ্যাংশ ও স্থায়ী সম্পদ সংক্রান্ত বিষয়ে নিরীক্ষকের ‘এমফাসিস অব ম্যাটারস’ উঠে আসায় নড়েচড়ে বসেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখিত বকেয়া ডিভিডেন্ড এবং স্থায়ী সম্পদের রেজিস্টার হালনাগাদ না থাকার বিষয়ে কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএসইসি। একই সঙ্গে অনিয়ম ও গাফিলতির পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির পক্ষ থেকে ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার (সিআরও) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ও নিরীক্ষক—উভয় পক্ষের বক্তব্য নিয়ে অস্পষ্ট তথ্য ও সম্ভাব্য আইনি লঙ্ঘন যাচাই করবে ডিএসই।
তদন্তে কোনো সিকিউরিটিজ আইন বা প্রবিধান লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে দায় নির্ধারণ করা হবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও), কোম্পানি সচিব এবং নিরীক্ষকদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বিএসইসিতে জমা দিতে হবে।
বিএসইসির চিঠি অনুযায়ী, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের নোট ২০.০১-এ ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বেশি ডিভিডেন্ড বকেয়া দেখানো হয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে মাত্র ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৬ টাকা, যা বিদ্যমান নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া কোম্পানির স্থায়ী সম্পদের কোনো হালনাগাদ রেজিস্টার নেই এবং আলোচিত অর্থবছরে সম্পদের পুনর্মূল্যায়নও করা হয়নি।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিপুল পরিমাণ বকেয়া লভ্যাংশ থাকা সত্ত্বেও তা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা না রাখা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, লভ্যাংশ ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা বাধ্যতামূলক। এই নিয়ম ভঙ্গ করায় কোম্পানিটির করপোরেট সুশাসন ও নগদ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে।
অন্যদিকে, স্থায়ী সম্পদের রেজিস্টার হালনাগাদ না থাকা এবং পুনর্মূল্যায়ন না করাকে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভ্রান্তিকর হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্পদের সঠিক হিসাব ও বাজারমূল্যের নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থান নির্ধারণ করা কঠিন। ফলে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো বাজারের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
























