কিয়ামতের দিন মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ও কর্মকাণ্ডের হিসাব নেওয়া হবে। শুধু সম্পদ কত ছিল, তা নয়—কোথা থেকে উপার্জন করা হয়েছে, কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, অর্জিত জ্ঞান কী কাজে লাগানো হয়েছে এবং শরীর কোন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে—এসব বিষয়েও জবাবদিহি করতে হবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পা নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে তার জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে—কোথায় তা ব্যয় করেছে; তার জ্ঞান সম্পর্কে—তা দিয়ে কী করেছে; তার সম্পদ সম্পর্কে—কোথা থেকে তা অর্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে; এবং তার শরীর সম্পর্কে—কী কাজে তা ক্ষয় করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৪১৭)
হাদিসটির শিক্ষা অনুযায়ী, কিয়ামতের দিনের জবাবদিহির জন্য দুনিয়ার জীবনেই চারটি বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক হওয়া জরুরি।
১. জীবন কোথায় ব্যয় করেছি
মানুষের জীবন আল্লাহর দেওয়া অমূল্য আমানত। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব দিতে হবে। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে ইবাদত, নেক আমল, জ্ঞানার্জন এবং মানুষের কল্যাণে সময় ব্যয় করা উচিত।
২. জ্ঞান দিয়ে কী করেছি
শুধু জ্ঞান অর্জন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। মানুষ যে জ্ঞান অর্জন করেছে, তা কীভাবে কাজে লাগিয়েছে—সেটিও জিজ্ঞাসা করা হবে। তাই জানা বিষয় অনুযায়ী আমল করা এবং অন্যকে কল্যাণকর জ্ঞান শেখানো জরুরি।
৩. সম্পদ কোথা থেকে অর্জন ও কোথায় ব্যয় করেছি
সম্পদের ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে—কোথা থেকে উপার্জন করেছি এবং কোথায় ব্যয় করেছি।
হারাম, প্রতারণা, ঘুষ, সুদ বা অন্যায় উপায়ে অর্জিত সম্পদ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। একইভাবে হালালভাবে উপার্জিত সম্পদও অপচয় বা অন্যায় কাজে ব্যয় করা উচিত নয়। পরিবার-পরিজনের অধিকার আদায়, জাকাত-সদকা, আত্মীয়ের হক এবং মানুষের কল্যাণে সম্পদ ব্যয় করা উচিত।
৪. শরীর কী কাজে ব্যবহার করেছি
মানুষের শরীরও আল্লাহর দেওয়া আমানত। যৌবন, শক্তি ও সুস্থতা চিরস্থায়ী নয়। তাই শরীরকে গুনাহের কাজে ব্যবহার না করে ইবাদত, পরিশ্রম, পরিবার ও সমাজের কল্যাণ এবং মানুষের উপকারে কাজে লাগানো উচিত।
নিজের শরীরের যথাযথ যত্ন নেওয়াও দায়িত্বের অংশ। কারণ অসুস্থ হওয়ার আগে সুস্থতার মূল্য দেওয়া এবং সেই শক্তিকে ভালো কাজে ব্যবহার করাই একজন মুমিনের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।
জবাবদিহির প্রস্তুতি এখন থেকেই
হাদিসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—দুনিয়ার জীবন শুধু ভোগের জন্য নয়, বরং এটি পরীক্ষার সময়। সময়, জ্ঞান, সম্পদ ও শরীর—সবই আল্লাহর দেওয়া আমানত। তাই কিয়ামতের দিনের জবাবদিহির আগে দুনিয়ার জীবনেই নিজেদের কাজকর্ম পর্যালোচনা করা উচিত।
আজ যে সময় চলে যাচ্ছে, যে সম্পদ ব্যয় করছি, যে জ্ঞান অর্জন করছি এবং যে শক্তি ব্যবহার করছি—একদিন প্রতিটির হিসাব দিতে হবে।
























