জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর রমজান ২৯ বা ৩০ দিন হলে ঈদুল ফিতর হতে পারে ১০ মার্চ। তবে এই দুই তারিখই এখনো সম্ভাব্য। বাংলাদেশে রমজান শুরু ও ঈদ উদযাপনের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায়।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হতে পারে
হিজরি বর্ষপঞ্জি চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে রমজান প্রতিবছর প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন করে এগিয়ে আসে। সেই হিসাবে ২০২৭ সালে ২০২৬ সালের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন আগে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ বা অমাবস্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত হলে পরদিন, অর্থাৎ ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে রোজা শুরু হতে পারে।
সে হিসাবে ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রথম তারাবির নামাজ আদায় করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
১০ মার্চ হতে পারে ঈদ
ইসলামী বর্ষপঞ্জিতে রমজান মাস সাধারণত ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। রমজান শেষে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার পর ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারিত হয়।
বর্তমান জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১০ মার্চ বুধবার ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে রমজান ২৯ দিন নাকি ৩০ দিন হবে এবং শাওয়ালের চাঁদ কবে দেখা যাবে—তার ওপর ঈদের চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে।
কেন প্রতিবছর রমজান এগিয়ে আসে?
ইসলামী বর্ষপঞ্জি চন্দ্রভিত্তিক। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার সৌরভিত্তিক। এ দুই ক্যালেন্ডারের বছরের দৈর্ঘ্যে পার্থক্যের কারণে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে রমজান প্রতিবছর সাধারণত প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে চলে আসে।
এ কারণেই কয়েক বছর পরপর রমজানের সময় ঋতুভেদেও পরিবর্তন দেখা যায়।
বাংলাদেশে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাঁদ দেখার ওপর
রমজান ইসলামী বর্ষপঞ্জির নবম মাস। এই মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে মুসলমানরা রোজা পালন করেন। একই সঙ্গে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা ও আত্মসংযাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তবে ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু এবং ১০ মার্চ ঈদ—দুটিই এখন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সম্ভাব্য তারিখ। বাংলাদেশে চাঁদ দেখার বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে রমজান ও ঈদের তারিখ ঘোষণা করবে।
তাই এখনই এগুলোকে চূড়ান্ত তারিখ হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করাই সঠিক।
























