ঢাকা   শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

মাতারবাড়ী বন্দর নিয়ে কী চুক্তি হয়েছে? প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাব চাইলেন জামায়াত আমির

রাজনীতি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০৯:৫৫, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

মাতারবাড়ী বন্দর নিয়ে কী চুক্তি হয়েছে? প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাব চাইলেন জামায়াত আমির

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো গোপন সমঝোতা হচ্ছে কি না, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। কানেকটিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারও কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে খুলনা বিভাগ অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘দুই দিন আগে চার দিনের সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ফিরেছেন। কী জন্য গিয়েছিলেন, কী করে এসেছেন—জাতির সামনে তাঁকে এটা খোলাসা করতে হবে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো লুকোচুরি হচ্ছে কি না, জাতি তা পরিষ্কার জানতে চায়। কানেকটিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারও কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না।’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছিল, তাদের পরিণতি তারা এখন ভোগ করছে। তাদের তো দিদি-দাদা ছিল, আপনাদের কে আছে? জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে পার পাবেন না।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ৯ নভেম্বরের সময়সীমা

শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দল সাত দফা দাবিতে লংমার্চ করছে। এর মধ্যে প্রধান দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। এ রায় বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই বাকি ছয় দফার জন্ম হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যদি একটা দফা বাস্তবায়ন হতো, বাকি ছয় দফা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারত না। কোনো চাঁদাবাজ, কোনো দখলদার, কোনো দুর্নীতিবাজ, কোনো মাদকসম্রাট মাথা তুলে দাঁড়াতে পারত না।’

বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতারণা করেছে। কথা দিয়ে কথা ভঙ্গ করেছে, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করেছে এবং জনগণের রায়কে উপহাস করেছে।

আগামী ৯ নভেম্বর সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ঘোষণা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় বিএনপিকে এর জন্য উচ্চমূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করেন।

৪২৫ কিলোমিটারের লংমার্চ শুরু

শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর সকাল সাড়ে আটটার দিকে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ধরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, রূপসা সেতু পার হয়ে যশোর ও কুষ্টিয়ার দিকে যাবে এই বহর।

প্রায় ৪২৫ কিলোমিটারের যাত্রাপথে ১৯টি জেলা অতিক্রম করার পরিকল্পনা রয়েছে। পথে একাধিক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরী চত্বর ও স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লি মোড় এবং ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পথসভা করার কথা রয়েছে। লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ হবে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে।

সরকারকে সতর্ক করলেন ১১-দলীয় নেতারা

উদ্বোধনী সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি অফিস বিএনপির অফিসে পরিণত হয়েছে। সেখান থেকে সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং মানুষের ভিটা দখল করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে, দিন শেষে সব দায় তাঁর কাঁধেই আসবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, দেশের সংকটের মূল কারণ সংবিধান সংস্কার না করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা। সরকার নানাভাবে জনগণের রায়কে অসম্মান করছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার সাংবিধানিক পদগুলোতে দলীয় লোক বসাতে চায়। জুলাই জাতীয় সনদ মানলে তা সম্ভব হবে না বলেই সরকার জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করছে। বিরোধী দলের লংমার্চের মাধ্যমে জনমত গঠন করা হচ্ছে এবং জনগণ সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা।

তবে সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ দলটির কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না।

সাত দফা দাবিতে লংমার্চ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে এই লংমার্চ করছে ১১-দলীয় ঐক্য। তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ করা।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করেছিল ১১-দলীয় ঐক্য। খুলনা বিভাগের পর আগামী ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

সর্বশেষ