ঢাকা   রোববার ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

শেয়ারবাজারে খাতভিত্তিক পালাবদল, আগ্রহ বাড়ছে সেবা-আবাসনে

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:০৮, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

শেয়ারবাজারে খাতভিত্তিক পালাবদল, আগ্রহ বাড়ছে সেবা-আবাসনে

শেয়ারবাজারে খাতভিত্তিক বিনিয়োগ প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। কোনো খাতে লেনদেন বাড়লেও কমছে শেয়ারদর, আবার কোনো খাতে তুলনামূলক কম লেনদেনের মধ্যেও মিলছে ইতিবাচক রিটার্ন। বিদায়ী সপ্তাহে সেবা ও আবাসন খাতে লেনদেন এবং শেয়ারদর—দুটিতেই ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বিপরীতে পাট, সিমেন্ট ও সিরামিক খাতে হয়েছে উল্লেখযোগ্য দরপতন। আর বাজারের বড় অংশজুড়ে লেনদেন থাকা টেক্সটাইল খাতে কমেছে কেনাবেচার গতি। ফলে খাতভেদে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ২৫-২৯ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলোচিত সপ্তাহে সবচেয়ে ভালো রিটার্ন দিয়েছে সেবা ও আবাসন খাত। এ খাতের সাপ্তাহিক রিটার্ন ছিল ২ দশমিক ২৪ শতাংশ। একই সময়ে আগের সপ্তাহের তুলনায় দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৪০ দশমিক ৯২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হলেও আলোচিত সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকায়। এ খাতের চারটি কোম্পানির মধ্যে তিনটির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে একটির।

সেবা ও আবাসন খাতের বিপরীতে সবচেয়ে বেশি চাপে ছিল পাট খাত। আলোচিত সপ্তাহে এ খাতে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে ৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা সব খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন। একই সময়ে সিমেন্ট খাতে শেয়ারদর কমেছে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ এবং সিরামিক খাতে ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। পাট খাতের তিনটি কোম্পানির সবগুলোর শেয়ারদর কমেছে। সিমেন্ট খাতের সাতটির মধ্যে ছয়টি এবং সিরামিক খাতের পাঁচটির মধ্যে চারটি কোম্পানির দর হারিয়েছে। অর্থাৎ এসব খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারেই ছিল বিক্রির চাপ।

এদিকে, বাজারের মোট লেনদেনে বড় অংশজুড়ে থাকলেও টেক্সটাইল খাতে দেখা গেছে দুর্বলতা। ডিএসইর মোট দৈনিক গড় লেনদেনের ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ এসেছে এ খাত থেকে। তবে আগের সপ্তাহের তুলনায় খাতটিতে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৯২ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হলেও আলোচিত সপ্তাহে তা নেমে এসেছে ৭৫ কোটি ৫ লাখ টাকায়।

শুধু লেনদেন নয়, টেক্সটাইল খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদরেও ছিল নেতিবাচক প্রবণতা। এ খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৩৩টির শেয়ারদর কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে ১৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল আটটির দর। অর্থাৎ লেনদেনের বড় অংশ দখলে থাকলেও খাতটির অধিকাংশ কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক পরিস্থিতি ছিল না।

অন্যদিকে, টেলিযোগাযোগ এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে লেনদেনের গতি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। আগের সপ্তাহের তুলনায় টেলিযোগাযোগ খাতে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৬৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে এ বৃদ্ধির হার ৮৮ দশমিক ২২ শতাংশ। তবে লেনদেন বাড়াকে সরাসরি শেয়ারদর বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, কোনো খাতে লেনদেন বাড়লেও সেখানে সব কোম্পানির শেয়ারদর একইভাবে বাড়ে না।

সামগ্রিকভাবে বিদায়ী সপ্তাহের বাজারচিত্রে খাতভেদে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ভিন্নতা স্পষ্ট হয়েছে। সেবা ও আবাসন খাতে লেনদেন ও রিটার্ন—দুটিই বেড়েছে। বিপরীতে পাট, সিমেন্ট ও সিরামিক খাতে দরপতন হয়েছে এবং টেক্সটাইল খাতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। তবে এক সপ্তাহের তথ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এই প্রবণতা সাময়িক, নাকি নতুন কোনো খাতভিত্তিক বিনিয়োগধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বুঝতে পরবর্তী সপ্তাহগুলোর লেনদেন ও রিটার্ন পর্যবেক্ষণ জরুরি।

সর্বশেষ