ঢাকা   বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

শেয়ারবাজারে তিন প্রতিষ্ঠানের বড় আপডেট

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:২৮, ২৭ মে ২০২৬

সর্বশেষ

শেয়ারবাজারে তিন প্রতিষ্ঠানের বড় আপডেট

কারখানা উন্নয়ন ও বিএমআরই প্রকল্পে এগোচ্ছে টেকনো ড্রাগস

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও কেমিক্যাল খাতের কোম্পানি টেকনো ড্রাগস লিমিটেড তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যয় করছে বলে জানিয়েছে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান অরুণ অ্যান্ড কোম্পানি, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত প্রান্তিকের আইপিও তহবিল ব্যবহার সংক্রান্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটি আইপিও থেকে উত্তোলিত অর্থ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সম্প্রসারণমূলক প্রকল্পে ব্যবহার করছে। এর মধ্যে গাজীপুরের মির্জাপুরে অবস্থিত কারখানার ভবন ও অন্যান্য নির্মাণকাজ এবং নরসিংদীর সাতিরপাড়ায় বিএমআরই (Balancing, Modernization, Rehabilitation and Expansion) কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য।

নিরীক্ষকরা জানিয়েছেন, গাজীপুর কারখানায় ইটিপি’র অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ড্রেন লাইন, ফায়ার হাইড্র্যান্ট ও ডিটেকশন সিস্টেম, স্যানিটারি ও প্লাম্বিং, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড, অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ, বিভিন্ন ভবনের শেলফ লেভেলিং ও ইপোক্সি ফ্লোরিংয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) ইউনিট, অফিস এলাকা এবং ক্যান্টিন ভবনের নির্মাণকাজও সম্পন্ন হয়েছে, যদিও কিছু স্থানে সাইড ওয়াল প্লাস্টারিং বাকি রয়েছে।

তবে অ্যান্টি-টিউবারকিউলোসিস (টিবি) ভবনের ৩৪ তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ এখনও চলমান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে নরসিংদীর সাতিরপাড়ায় বিএমআরই প্রকল্পের আওতায় ক্লিন রুম ওয়াল ও সিলিং প্যানেল, ইউটিলিটি ও প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট মেশিনারি, ওয়াটার সিস্টেম, ইলেকট্রিক্যাল সার্ভিস, স্যানিটারি ও প্লাম্বিং, ওয়্যারহাউজের টেম্পারেচার মনিটরিং সিস্টেমসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া প্রশাসনিক ভবন, সাধারণ উৎপাদন ইউনিট ও অনকোলজি উৎপাদন ভবনের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজও শেষ হয়েছে। তবে এই প্রকল্পে এইচভিএসি সিস্টেম, ফায়ার ডিটেকশন ও ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম, পার্টিশন ওয়াল নির্মাণ, ফ্লোর ইপোক্সি, ভবনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং ইনজেক্টেবল মেশিন স্থাপনের কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রসপেক্টাস অনুযায়ী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সংগ্রহের বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কেবল দুটি স্ট্যাবিলিটি চেম্বার এখনও সরবরাহ করা হয়নি। ইতোমধ্যে সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতির কিছু চালু হয়েছে এবং কিছু স্থাপনের পর্যায়ে রয়েছে।


নিরীক্ষকরা আরও জানান, কোম্পানির এক সরবরাহকারী চুক্তি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় সেই চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এ কারণে আগাম পরিশোধ করা ২ কোটি টাকা ফেরত নিয়ে তা পুনরায় কোম্পানির আইপিও অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানি আইপিওর অর্থ প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যবহার করছে এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শর্তও অনুসরণ করছে। এছাড়া ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যবহৃত অর্থও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ব্যয় করা হয়েছে বলে নিরীক্ষকরা নিশ্চিত করেছেন।

খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতিতে চাপে প্রিমিয়ার ব্যাংক

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির ২০২৫ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বড় ধরনের প্রভিশন ঘাটতি, মূলধন সংকট এবং খেলাপি ঋণের উচ্চ ঝুঁকির বিষয় উঠে এসেছে। ব্যাংকটির নিরীক্ষক প্রতিবেদনে “এমফ্যাসিস অব ম্যাটার” ও “অদার ম্যাটার” অনুচ্ছেদে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ছিল ৩৩ হাজার ৫০০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ৩৮৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এসব ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন ছিল ৭ হাজার ২৮৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা। তবে ব্যাংকটি সংরক্ষণ করেছে মাত্র ১ হাজার ১৯৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ফলে এ খাতে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, অশ্রেণীকৃত ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ১১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এ খাতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন ছিল ২ হাজার ৬৮৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। বিপরীতে ব্যাংকটি সংরক্ষণ করেছে মাত্র ৩৯৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এতে আরও ২ হাজার ২৮৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন ছিল ১ হাজার ৬২৯ কোটি ৮ লাখ টাকা। তবে সংরক্ষণ করা হয়েছে মাত্র ৪০৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। ফলে এ খাতে ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ২২০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডে ব্যাংকটির ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি টাকা। তবে ব্যাংকটি একক আর্থিক প্রতিবেদনে এ ক্ষতির বিপরীতে কোনো ইমপেয়ারমেন্ট লস হিসাবভুক্ত করেনি।স্টক মার্কেট শিক্ষা

এছাড়া গ্র্যাচুইটি ফান্ড, অফ-ব্যালেন্স শিট আইটেম এবং শেয়ারে বিনিয়োগের বিপরীতেও যথাক্রমে ১৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ৯৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং ১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতির তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সব মিলিয়ে ব্যাংকটির মোট প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭৯৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের এক চিঠির মাধ্যমে এ ঘাটতি সমন্বয় না করেই ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার অনুমতি দিয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও বেজেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির প্রয়োজনীয় মূলধন ছিল ৪ হাজার ৪৯৫ কোটি ৭ লাখ টাকা। বিপরীতে ব্যাংকের রেকর্ডকৃত মূলধন ঋণাত্মক ৪ হাজার ৮৩৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রকৃত মূলধন ঘাটতি দাঁড়াতে পারত ৯ হাজার ৩৩০ কোটি ২১ লাখ টাকা।

একইসঙ্গে ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিআরএআর) ন্যূনতম ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও ব্যাংকটি প্রায় ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ সিআরএআর দেখিয়েছে। তবে পুরো প্রভিশন ঘাটতি বিবেচনায় নিলে সিআরএআর ঋণাত্মক ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে যেত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে “অদার ম্যাটার” অনুচ্ছেদে নিরীক্ষক উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক হিসাবমান আইএএস-২৪ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেন ও সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কেবল নোট ৩.১০-এ উল্লিখিত তথ্য ছাড়া অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট পক্ষের তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষকের বিশেষ পর্যবেক্ষণ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষক ‘এমফ্যাসিস অব ম্যাটার’ এবং ‘অদার ম্যাটারস’ অনুচ্ছেদ যুক্ত করেছেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।বাংলাদেশের অর্থনীতি

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরণীর নোট ২.৪-এর প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির নন-কন্ট্রোলিং ইন্টারেস্ট বাদে মোট নেতিবাচক ইকুইটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৪৭ কোটি ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

এত বড় নেতিবাচক ইকুইটি থাকা সত্ত্বেও কোম্পানিটি ‘গোয়িং কনসার্ন’ ভিত্তিতে আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে—এমন ধারণার ভিত্তিতেই আর্থিক হিসাব তৈরি করা হয়েছে।

নিরীক্ষক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উল্লেখযোগ্য সঞ্চিত লোকসান থাকা সত্ত্বেও কেন ‘গোয়িং কনসার্ন’ ভিত্তিতে আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে নিরীক্ষকের মতামতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

অন্যদিকে, ‘অদার ম্যাটারস’ অংশে নিরীক্ষক উল্লেখ করেছেন, কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফাইন্যান্স সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল লিমিটেডের ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনও একই নিরীক্ষক দ্বারা নিরীক্ষিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর নিরীক্ষক ‘আনমডিফায়েড ওপিনিয়ন’ বা শর্তহীন মতামত প্রদান করেছেন।

সর্বশেষ