ঢাকা   শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

৪০০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ছে মেঘনা ব্যাংক, কুপন রেট ১২.০৫ শতাংশ

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩০, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

৪০০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ছে মেঘনা ব্যাংক, কুপন রেট ১২.০৫ শতাংশ

নিজেদের মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করতে ৪০০ কোটি টাকার দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করছে মেঘনা ব্যাংক পিএলসি। সাত বছর মেয়াদি এ বন্ড ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পেয়েছে। বন্ডটির কুপন রেট নির্ধারণ করা হয়েছে পরিবর্তনশীল হারে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এর বার্ষিক কুপন রেট ছিল ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ।

ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ টায়ার-২ মূলধন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি ঋণ বিতরণ, বিনিয়োগ ও সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

মেঘনা ব্যাংকের দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের মোট আকার ৪০০ কোটি টাকা। সাত বছর মেয়াদি এ বন্ড প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করা হবে। প্রযোজ্য আইন ও নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

ব্যাংকটির মতে, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা পরিপালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নতুন বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিবর্তনশীল কুপন রেট ১২.০৫ শতাংশ

বন্ডটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পরিবর্তনশীল কুপন রেট। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সুদের হারের পরিবর্তে বাজারের রেফারেন্স রেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এর মুনাফার হার পরিবর্তিত হবে।

মেঘনা ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ছয় মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হারের গড়ের ভিত্তিতে বন্ডটির রেফারেন্স রেট নির্ধারণ করা হয়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে চূড়ান্ত কুপন রেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বন্ডটির রেফারেন্স রেট ছিল ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ। এর সঙ্গে ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করায় বার্ষিক কুপন রেট দাঁড়ায় ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ রেফারেন্স রেট বাড়লে ভবিষ্যতে বন্ডটির কুপন রেটও বাড়তে পারে। আবার রেফারেন্স রেট কমে গেলে কুপন রেট কমার সম্ভাবনাও থাকবে।

বন্ডটির প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করা হলেও পরবর্তী সময়ে এটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তালিকাভুক্তির পর বিনিয়োগকারীরা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বন্ডটি কেনাবেচার সুযোগ পেতে পারেন। এতে বিনিয়োগের তারল্য বাড়ার পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজারে বিকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কর রেয়াত ও অন্যান্য সুবিধা

মেঘনা ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রযোজ্য আয়কর আইন ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা এ বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াতের সুবিধা পেতে পারেন। ব্যাংকটির দাবি, বন্ডটিতে আবগারি শুল্ক নেই এবং বিনিয়োগের জন্য পৃথক কোনো সর্বোচ্চ সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি।

ব্যাংকটির দাবি, প্রচলিত সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও ডিপিএসের তুলনায় এ বন্ডে বেশি মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, বন্ডটির বার্ষিক কুপন রেট ছিল ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ।

তবে বিনিয়োগকারীদের মনে রাখতে হবে, এটি পরিবর্তনশীল কুপন রেটের বন্ড। ফলে বর্তমান ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ হার পুরো সাত বছর অপরিবর্তিত থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাজারের রেফারেন্স রেট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতের মুনাফার হারও পরিবর্তিত হতে পারে।

ছয় মাস অন্তর মুনাফা, তৃতীয় বছর থেকে মূলধন ফেরত

বন্ডটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ছয় মাস অন্তর কুপন আয় পাওয়ার সুযোগ। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা বছরে দুইবার নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন।

অন্যদিকে, বন্ডটির মূলধন পরিশোধ শুরু হবে তৃতীয় বছর শেষে। এরপর মেয়াদের শেষ পাঁচ বছরে প্রতিবছর মূল বিনিয়োগের ২০ শতাংশ করে ফেরত দেওয়া হবে। এভাবে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে বিনিয়োগকারীদের মূলধন পরিশোধ করা হবে।

বিনিয়োগের আগে যে বিষয়গুলো বিবেচনা জরুরি

সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। এ ধরনের বন্ডে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়লে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সাধারণ ঋণদাতাদের তুলনায় বন্ডধারীদের অগ্রাধিকার কম থাকে। ফলে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

এ ছাড়া পরিবর্তনশীল কুপন রেট, সাত বছরের মেয়াদ, মূলধন ফেরতের সময়সূচি এবং মেয়াদপূর্তির আগে বিক্রির সুযোগ ও সম্ভাব্য বাজারদরও যাচাই করা প্রয়োজন। বর্তমান কুপন রেট আকর্ষণীয় মনে হলেও ভবিষ্যতে তা কমে যেতে পারে। একইভাবে, বন্ডটি ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তালিকাভুক্তির পর বাজারে পর্যাপ্ত ক্রেতা থাকবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে ৪০০ কোটি টাকার এ বন্ডের মাধ্যমে মেঘনা ব্যাংক নিজেদের মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়েছে। অন্যদিকে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি প্রচলিত ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য বিনিয়োগ মাধ্যমের বাইরে একটি বিকল্প সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে বন্ডের শর্ত, পরিবর্তনশীল মুনাফার হার এবং সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের ঝুঁকি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সর্বশেষ