ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই শরীয়তপুরের পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে বড় আকারের পাঙাশ। গত দুই দিন ধরে নদীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর পাঙাশ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলেরা। প্রতিটি মাছের ওজন ৫ থেকে ১২ কেজি। অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ মাছ পেয়ে খুশি তাঁরা।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত শরীয়তপুর ও আশপাশের বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে। জেলেদের ভাষ্য, গত বছরও মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান শেষে পদ্মায় প্রচুর পাঙাশ ধরা পড়েছিল। সে সময় টানা সাত দিন নদীর বিভিন্ন স্থানে জেলেদের জালে এসব মাছ ধরা পড়ে।
শুক্রবার সকালে নড়িয়ার সুরেশ্বর মাছবাজারে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত ৫০টি জেলে নৌকায় পাঙাশ নিয়ে বাজারে এসেছেন জেলেরা। বাজারের ৪০টি পাইকারি আড়তে এসব মাছ বিক্রি হচ্ছিল। পরে ঢাকাসহ মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও মাদারীপুরের পাইকারি ব্যবসায়ীরা মাছগুলো কিনে নেন।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার শীবসেন এলাকার জেলে লোকমান হোসেন শুক্রবার সকালে ছয়টি পাঙাশ নিয়ে সুরেশ্বর বাজারে আসেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সারা রাত পদ্মা নদীতে মাছ ধরে ছয়টি পাঙাশ পান। মাছগুলোর মোট ওজন ছিল প্রায় ৩৫ কেজি। প্রতি কেজি ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে মাছগুলো মোট ৪০ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি।
জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা নদীসংলগ্ন নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা, নওপাড়া ও ঘড়িসার এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা, তারাবুনিয়া ও চরভাগা এলাকায় পাঙাশ বেশি ধরা পড়ছে। সারা রাত ও দিনের বিভিন্ন সময়ে মাছ শিকার করে জেলেরা সন্ধ্যায় সুরেশ্বর, চণ্ডীপুর, নড়িয়া, চরভাগা ও নরসিংহপুরের বাজারে মাছ বিক্রি করছেন।
নড়িয়ার সুরেশ্বর মাছবাজারের ব্যবসায়ী ও জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন বকাউল বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারে অন্তত ৮০০টি পাঙাশ মাছ বিক্রি হয়েছে। এসব মাছের বিক্রয়মূল্য ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা। গত বছরও প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জেলেদের জালে প্রচুর পাঙাশ ধরা পড়েছিল।
শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় অন্তত ৩৩ হাজার জেলে রয়েছেন। ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে জেলেরা নদীতে মাছ শিকার শুরু করেন। তবে কোনো কোনো এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই জেলেরা নদীতে নামেন।
শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, এত বেশি পাঙাশ ধরা পড়ার ঘটনা কিছুটা ব্যতিক্রম। তাঁর ধারণা, ইলিশের সঙ্গে পাঙাশ মাছও সমুদ্র থেকে নদীর মিঠাপানিতে চলে আসায় জেলেরা জাল ফেললেই এসব মাছ পাচ্ছেন।
























