ঢাকা   মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চুলের যত্নে ভেষজ তেল কেন ব্যবহার করবেন

জীবনযাপন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১:১৫, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুলের যত্নে ভেষজ তেল কেন ব্যবহার করবেন

চুলের যত্নে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ভেষজ উপাদান ব্যবহার হয়ে আসছে। আমলকী, মেথি, জবা, ভৃঙ্গরাজ, ব্রাহ্মী, রোজমেরি, নিমসহ নানা প্রাকৃতিক উপাদান চুল ও মাথার ত্বকের পরিচর্যায় জনপ্রিয়। এসব উপাদানসমৃদ্ধ তেল স্ক্যাল্পে মালিশের মাধ্যমে শুষ্কতা কমাতে এবং চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

তবে ভেষজ তেলের উপকারিতা নির্ভর করে ব্যবহৃত উপাদান, তেলের গুণমান এবং ব্যক্তির স্ক্যাল্প ও চুলের ধরন অনুযায়ী। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করাই গুরুত্বপূর্ণ।

ভেষজ উপাদানের ভূমিকা

আমলকী ও মেথি:
আমলকীতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। চুলের পরিচর্যায় এটি বহুল ব্যবহৃত একটি উপাদান। মেথিও দীর্ঘদিন ধরে চুলের শুষ্কতা ও ভঙ্গুরতা কমানোর জন্য বিভিন্ন ঘরোয়া পরিচর্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

জবা ও জটামাংসী:
জবা ফুলের নির্যাস চুলের পরিচর্যায় জনপ্রিয় একটি ভেষজ উপাদান। এটি চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং চুলকে মসৃণ রাখতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে জটামাংসী আয়ুর্বেদিক চুলের পরিচর্যায় ব্যবহৃত একটি পরিচিত উদ্ভিদ।

ভৃঙ্গরাজ ও ব্রাহ্মী:
আয়ুর্বেদিক চুলের পরিচর্যায় ভৃঙ্গরাজের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। ব্রাহ্মীও মাথার ত্বক ও চুলের পরিচর্যায় ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে শুষ্ক স্ক্যাল্পে তেল দিয়ে মালিশ করলে আরাম পাওয়া যেতে পারে।

রোজমেরি ও কারিপাতা:
রোজমেরি তেল চুলের পরিচর্যায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। কিছু গবেষণায় চুল পড়ার ক্ষেত্রে রোজমেরি তেলের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কারিপাতাও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি ভেষজ উপাদান হিসেবে চুলের পরিচর্যায় ব্যবহৃত হয়।

তুলসী ও নিম:
তুলসী ও নিমের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্যের কারণে এগুলো স্ক্যাল্পের পরিচর্যায় ব্যবহৃত হয়। খুশকি বা স্ক্যাল্পে চুলকানির ক্ষেত্রে কিছু মানুষের উপকার হতে পারে। তবে এসব সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

তেল মালিশের উপকারিতা

মাথার ত্বকে তেল দিয়ে কয়েক মিনিট আলতোভাবে মালিশ করলে স্ক্যাল্পে আরাম পাওয়া যায় এবং চুলে আর্দ্রতা যোগ হয়। তবে তেল মালিশ করলেই চুলের গোড়া থেকে চুল পড়া বন্ধ হবে বা নতুন চুল গজাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

চুল পড়ার পেছনে বংশগত কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ, কিছু রোগ বা ওষুধসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই অতিরিক্ত চুল পড়লে শুধু তেলের ওপর নির্ভর না করে কারণ শনাক্ত করা জরুরি।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

হাতের তালুতে কয়েক ফোঁটা তেল নিয়ে আঙুলের ডগা দিয়ে আলতোভাবে স্ক্যাল্পে মালিশ করতে পারেন। ৫ থেকে ১০ মিনিট হালকা হাতে ম্যাসাজ করাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত জোরে ঘষাঘষি করলে স্ক্যাল্পে অস্বস্তি বা চুলের ক্ষতি হতে পারে।

তেল লাগানোর পর এক থেকে কয়েক ঘণ্টা রেখে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন। রাতে তেল দিয়ে সকালে ধুয়ে ফেলার পদ্ধতিও অনেকে অনুসরণ করেন। তবে সারা রাত তেল রেখে দেওয়াই যে সবার জন্য বেশি উপকারী, এমন প্রমাণ নেই। যাদের স্ক্যাল্প তৈলাক্ত বা খুশকির প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় তেল রেখে দিলে উল্টো সমস্যা বাড়তে পারে।

ব্যবহারে সতর্কতা

প্রাকৃতিক বা ভেষজ উপাদান হলেও সবার ত্বকে তা একইভাবে সহনীয় নাও হতে পারে। নতুন কোনো তেল ব্যবহারের আগে অল্প পরিমাণ ত্বকে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। জ্বালা, লালচে ভাব, চুলকানি বা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

এ ছাড়া চুল পড়া হঠাৎ বেড়ে গেলে, মাথার কোনো অংশে চুল পাতলা হয়ে গেলে কিংবা স্ক্যাল্পে দীর্ঘদিন ধরে চুলকানি, ক্ষত বা প্রদাহ থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, ভেষজ তেল চুলের নিয়মিত পরিচর্যার একটি অংশ হতে পারে। তবে স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য শুধু তেল নয়—সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শও গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: ভোগ ইন্ডিয়া, অ্যালুর, হেল্পলাইন