ঢাকা   মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

ত্বক পাতলা, কিডনি ক্ষতিগ্রস্তের ঝুঁকি—৮ ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার ও বিক্রি নিষিদ্ধ

ত্বক পাতলা, কিডনি ক্ষতিগ্রস্তের ঝুঁকি—৮ ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার ও বিক্রি নিষিদ্ধ

ত্বক ফর্সা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী দাগ, অ্যালার্জি, কিডনির ক্ষতি এবং স্নায়ুতন্ত্রে জটিলতাসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন আটটি ফেয়ারনেস ক্রিমের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। পরীক্ষায় এসব ক্রিমে অনুমোদিত সীমার বহু গুণ বেশি বিষাক্ত মার্কারি শনাক্ত হওয়ায় পণ্যগুলো বিক্রি, বিতরণ, মজুত ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ত্বক উজ্জ্বল করার নামে বাজারে বিক্রি হওয়া আটটি ফেয়ারনেস ক্রিমে স্বাভাবিক সীমার বহু গুণ বেশি বিষাক্ত মার্কারি পাওয়ায় সেগুলোর বিক্রি, বিতরণ, মজুত এবং ব্যবহার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি বলছে, এসব প্রসাধনী ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, পরীক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত আটটি পণ্যের মধ্যে সাতটি পাকিস্তানে উৎপাদিত এবং একটি চীনের তৈরি। তালিকায় রয়েছে এসজে এন্টারপ্রাইজের চাঁদনি হোয়াইটেনিং ক্রিম, কিউসিআইয়ের নিউ ফেস বিউটি ক্রিম, লোয়া ইন্টারন্যাশনালের নিভিয়া বিউটি ক্রিম ও নিভিয়া হোয়াইটেনিং ক্রিম, নুর এন্টারপ্রাইজের নুর হোয়াইটেনিং ক্রিম, ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ বিউটি ক্রিম, গোরি কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গোরি বিউটি ক্রিম এবং চীনের জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকসের ন্যাচারাল পার্ল স্ক্রিন ক্রিম।

কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে

বিএসটিআইর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে মার্কারিযুক্ত ত্বকের ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী দাগ সৃষ্টি, অ্যালার্জি, কিডনির কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, স্নায়বিক জটিলতা দেখা দেওয়া এবং গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে গর্ভের শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অবৈধ পথে বাজারে প্রবেশ

সংস্থাটি জানিয়েছে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদেশি ফেয়ারনেস ক্রিমের সরবরাহ বেড়েছে। তবে এসব পণ্য নিয়মিত আমদানি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে আসে না। অধিকাংশই লাগেজ বা বিভিন্ন অবৈধ পথে দেশে প্রবেশ করে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ফলে এসব পণ্যের গুণগত মান যাচাই বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

পরীক্ষায় মিলেছে ভয়াবহ তথ্য

বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বিএসটিআইর পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের পর দেখা যায়, আটটি ব্র্যান্ডের প্রতিটিতেই অত্যন্ত উচ্চমাত্রার মার্কারি রয়েছে। বাংলাদেশ মান (বিডিএস-১৩৮২) অনুযায়ী যেখানে মার্কারির সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য সীমা ১ পিপিএম, সেখানে এসব ক্রিমে সেই সীমার বহু গুণ বেশি মার্কারি পাওয়া গেছে।

পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, চাঁদনি হোয়াইটেনিং ক্রিমে ১২০ দশমিক ৩৯ পিপিএম, নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে ৪৪ দশমিক ৭২ পিপিএম, নিভিয়া বিউটি ক্রিমে ৫৯ দশমিক ৮২ পিপিএম, নিভিয়া হোয়াইটেনিং ক্রিমে ৭৯ দশমিক ৭০ পিপিএম, নুর হোয়াইটেনিং ক্রিমে ৮২ দশমিক ৭৬ পিপিএম, ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩ দশমিক ৩৭ পিপিএম, গোরি বিউটি ক্রিমে ৫৬ দশমিক ৯৩ পিপিএম এবং ন্যাচারাল পার্ল স্ক্রিন ক্রিমে ৬৭ দশমিক ৪৯ পিপিএম মার্কারি শনাক্ত হয়েছে।

কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেছেন, জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি কিংবা বাজারজাত করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, বাজার তদারকি, নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে ভোক্তারা নিরাপদ প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারেন।