শীত মৌসুম এলেই পিঠা-পুলি ও পায়েসের স্বাদ বাড়াতে খেজুরের গুড়ের চাহিদা বেড়ে যায়। বাজারেও দেখা মেলে নতুন গুড়ের। তবে এর সঙ্গে ভেজাল গুড়ের ঝুঁকিও বাড়ে। দেখতে সুন্দর বা চকচকে হলেই যে গুড় খাঁটি হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই কেনার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
খাঁটি খেজুরের গুড় তৈরি হয় খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে। তবে গুড়ের রং, গন্ধ কিংবা গঠন প্রাকৃতিকভাবেই বিভিন্ন রকম হতে পারে। আবার ভেজাল মেশানো হলেও সব সময় তা চোখে দেখে বোঝা সম্ভব নয়। তাই কয়েকটি লক্ষণ দেখে প্রাথমিক ধারণা নেওয়া গেলেও নিশ্চিত হতে নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে গুড় কেনাই ভালো।
১. রং দেখে প্রাথমিক ধারণা নিন
খেজুরের গুড় সাধারণত গাঢ় বাদামি, লালচে বাদামি কিংবা কালচে বাদামি রঙের হতে পারে। তবে রসের গুণমান, জ্বাল দেওয়ার মাত্রা ও তৈরির পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে রঙের পার্থক্য হয়।
খুব উজ্জ্বল বা অস্বাভাবিক রঙের গুড় দেখলে সতর্ক হওয়া ভালো। তবে শুধু রং দেখে গুড় খাঁটি না ভেজাল, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না।
২. অতিরিক্ত চকচকে কি না দেখুন
গুড়ের ওপরের অংশ অস্বাভাবিকভাবে চকচকে দেখালেই সেটিতে রাসায়নিক মেশানো হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। গুড়ের আর্দ্রতা, গঠন ও সংরক্ষণের পদ্ধতির কারণেও চেহারায় পার্থক্য হতে পারে।
তাই শুধু চকচকে ভাবের ওপর নির্ভর না করে গুড়ের গন্ধ, গঠন, বিক্রেতার নির্ভরযোগ্যতা এবং প্যাকেটজাত হলে উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্যও যাচাই করুন।
৩. গঠন ও নরমভাব লক্ষ করুন
খেজুরের গুড় কখনো নরম ও আঠালো, আবার কখনো তুলনামূলক শক্ত হতে পারে। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও তৈরির পদ্ধতির কারণে এই পার্থক্য দেখা যায়।
অতিরিক্ত শক্ত বা পাথরের মতো গুড় দেখলেই তাতে চিনি মেশানো হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। একইভাবে নরম হলেই গুড় খাঁটি, তা-ও বলা যায় না। তাই গঠনের পাশাপাশি অন্য লক্ষণগুলোও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
৪. পানিতে মিশিয়ে দেখুন
গুড়ের একটি ছোট টুকরা স্বচ্ছ পানিতে দিলে সেটি কীভাবে গলছে, তা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। পানিতে সহজে গলে যাওয়া বা কিছু অবশিষ্ট থাকা থেকে গুড়ের গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
তবে পানি ঘোলা হওয়া কিংবা নিচে দানা জমা হওয়াই ভেজালের নিশ্চিত প্রমাণ নয়। গুড়ের স্বাভাবিক উপাদান ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কারণেও এমন হতে পারে। ঘরোয়া এই পরীক্ষা দিয়ে সব ধরনের ভেজাল শনাক্ত করা সম্ভব নয়।
৫. গন্ধ ও স্বাদে অস্বাভাবিকতা খেয়াল করুন
খেজুরের গুড়ে সাধারণত একটি স্বাভাবিক, পরিচিত সুগন্ধ থাকে। গন্ধে অস্বাভাবিকতা, পচা ভাব কিংবা রাসায়নিকের মতো তীব্র গন্ধ পেলে গুড়টি না কেনাই ভালো।
স্বাদের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকুন। অস্বাভাবিক তেতো, নোনতা বা অন্য ধরনের স্বাদ পাওয়া গেলে সেটি খাওয়া এড়িয়ে চলুন। তবে শুধু স্বাভাবিক মিষ্টি স্বাদ বা পরিচিত গন্ধ থাকলেই গুড় খাঁটি বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। সন্দেহ হলে স্বাদ পরীক্ষা করার জন্য গুড় মুখে না দেওয়াই নিরাপদ।
খাঁটি গুড় কিনতে যা মনে রাখবেন
খেজুরের গুড় কেনার সময় শুধু রং, চকচকে ভাব, নরমভাব কিংবা স্বাদের ওপর নির্ভর করবেন না। পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন। প্যাকেটজাত গুড় হলে উপাদান, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ ও প্রস্তুতকারকের তথ্য যাচাই করুন। অস্বাভাবিক গন্ধ, ছত্রাক বা নষ্ট হওয়ার লক্ষণ থাকলে তা খাবেন না।
খেজুরের গুড়ে কিছু খনিজ উপাদান থাকতে পারে। তবে এর পুষ্টিগুণ গুড়ের ধরন ও প্রস্তুতপ্রণালির ওপর নির্ভর করে। গুড় মূলত চিনিসমৃদ্ধ খাবার, তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। ভেজাল গুড়ের উপাদান অজানা হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শীতের পিঠা-পুলির স্বাদ বাড়াতে খেজুরের গুড়ের জুড়ি নেই। তবে নিরাপদ খাবার বেছে নিতে সচেতন হওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, ঘরোয়া পাঁচটি কৌশল প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে; গুড়ের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে পরীক্ষাগারের বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
























