ঢাকা   রোববার ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

টানা পাঁচ মাস ৩০০ কোটি ডলারের নিচে প্রবাসী আয়, বাড়ছে ডলারের দাম

অর্থ ও বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৯:৪১, ১ নভেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

টানা পাঁচ মাস ৩০০ কোটি ডলারের নিচে প্রবাসী আয়, বাড়ছে ডলারের দাম

দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক ধারা থাকলেও টানা পাঁচ মাস ধরে মাসিক আয় ৩০০ কোটি ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৮৪ কোটি ডলার। আগের মাস সেপ্টেম্বরে এসেছিল ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে প্রবাসী আয় কিছুটা বেড়েছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে সর্বশেষ ৩০০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছিল। এরপর টানা পাঁচ মাস ধরে এই সীমার নিচে রয়েছে মাসিক প্রবাসী আয়।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে। তবে সেপ্টেম্বরে কমে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারে নেমে আসে। অক্টোবর মাসে আবার কিছুটা বেড়ে হয়েছে ২৮৪ কোটি ডলার।

অন্যদিকে, গত বছরের অক্টোবর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৫৬ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে অক্টোবরের আয় বেড়েছে ২৮ কোটি ডলার বা প্রায় ১২ শতাংশ।

প্রবাসী আয়ে বড় প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা

প্রবাসী আয়ের প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুযোগ এবং ডলারের আনুষ্ঠানিক বিনিময় হার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসী আয় আসার প্রবাহ বজায় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও অস্থিরতা থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ওই অর্থবছরের ১২ মাসের মধ্যে ছয় মাসেই ৩০০ কোটি ডলারের বেশি আয় এসেছিল।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছিল। ওই অর্থবছরেই প্রথমবারের মতো বার্ষিক প্রবাসী আয় ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরবর্তী অর্থবছরে সেই প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় নতুন রেকর্ড তৈরি হয়।

ব্যাংকারদের মতে, অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়াতে এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে সহায়তা করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বাজারে আবারও মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডলারের দাম বেড়েছে

ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমদানি দায় মেটাতে ডলার কেনাবেচার দাম সম্প্রতি বেড়েছে। গত ১৯ অক্টোবর এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা দরে ডলার কিনেছিল। গত বৃহস্পতিবার সেই দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায়। এ সময়ে প্রতিদিন ৫ থেকে ২০ পয়সা পর্যন্ত দর বেড়েছে।

ব্যাংকগুলোর ঘোষিত বিনিময় হার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সিটি ব্যাংক বিদেশফেরত যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ ডলার কিনেছে ১২৪ টাকা ৭৫ পয়সা দরে। ব্যাংকটি বিক্রি করেছে ১২৬ টাকা দরে।

একই দিন ব্র্যাক ব্যাংক ডলার কিনেছে ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় এবং বিক্রি করেছে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায়। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) কিনেছে ১২৫ টাকা দরে এবং বিক্রি করেছে ১২৬ টাকা ২৫ পয়সায়। অন্যদিকে অগ্রণী ব্যাংক নগদ ডলার কিনেছে ১২৩ টাকা এবং বিক্রি করেছে ১২৪ টাকা দরে।

খোলাবাজারে ডলার ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা

ব্যাংকের তুলনায় খোলাবাজারে ডলারের দাম আরও বেশি। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলের খোলাবাজার ও মানি চেঞ্জারগুলোতে ডলার বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা দরে। মানি চেঞ্জারগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে ডলার কিনেছে সর্বোচ্চ ১২৮ টাকা দামে।

ফলে ব্যাংক ও খোলাবাজারের মধ্যে ডলারের দরে ব্যবধান তৈরি হয়েছে। প্রবাসী আয় বাড়লেও ডলারের চাহিদা, সরবরাহ এবং বাজারে লেনদেনের পরিস্থিতির ওপর বিনিময় হার নির্ভর করছে। সামনের দিনগুলোতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং আমদানি চাহিদার পরিবর্তন ডলারের বাজারে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ