ঢাকা   রোববার ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৪৮, ১ নভেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান

দেশের শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। টানা দুই কার্যদিবস সূচক কমার পর বাজারসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, আগামী কার্যদিবসেও নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালক, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বাজারসংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে টানা তিন কার্যদিবস দরপতনের পর এক কার্যদিবস সূচক বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসেও বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিতে পারে। কার্যকর নজরদারি ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে চলমান অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে বলেও মনে করছেন তারা।

তাদের আশঙ্কা, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রধান সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যেতে পারে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বাজারের সার্বিক অবস্থা আরও নাজুক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ধারাবাহিক দরপতন রোধে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। বিশেষ করে উদ্যোক্তা-পরিচালক, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীকে বাজারমুখী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

তাদের অভিযোগ, বর্তমানে বাজারে উদ্যোক্তা-পরিচালক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতি খুবই কম। সংকটময় সময়ে বড় বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তা বাজারের দুর্বলতা আরও বাড়িয়ে তুলছে। এ অবস্থায় উদ্যোক্তা-পরিচালক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি আইনসম্মতভাবে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বাধ্যবাধকতা আরোপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে শেয়ার কেনার চাপ বৃদ্ধি পাবে। এতে লেনদেনে গতি আসার পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি বাজারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাও জরুরি।

এদিকে, বাজারসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কিছু বিতর্কিত কোম্পানির শেয়ার অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে লেনদেন হচ্ছে। এসব শেয়ারের দরবৃদ্ধির পেছনে কারা ভূমিকা রাখছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। অনিয়ম বা কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় এনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, কারসাজির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো কঠিন হবে।

ডিএসইতে সূচক ও লেনদেন কমেছে

রোববার (১ নভেম্বর) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় টাকার অঙ্কে লেনদেনও কমেছে।

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩২ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৮৫ দশমিক ১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ৪ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৫ দশমিক ৯২ পয়েন্টে নেমেছে। আর বাছাই করা ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৮ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৮ দশমিক ৪২ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে ৩৮৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৫১টির দর বেড়েছে, ১৯০টির কমেছে এবং ৪৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ দরপতনের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দরবৃদ্ধির তালিকার চেয়ে বেশি।

রোববার ডিএসইতে প্রায় ৪৮২ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৮২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

সিএসইতে সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে

দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) মূল্যসূচক কমেছে। তবে সেখানে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে।

রোববার সিএসইতে ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকার। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

এদিন সিএসইতে ১৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টির দর বেড়েছে, ৮৪টির কমেছে এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৮২ দশমিক ০১ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৪৯৪ দশমিক ২৬ পয়েন্টে নেমেছে। আগের কার্যদিবসে সূচকটি ৪৬ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বেড়েছিল।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফেরাতে শুধু আশ্বাস বা সাময়িক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। কার্যকর নজরদারি জোরদার, অনিয়ম ও কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং বড় বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা গেলে চলমান সংকট কাটিয়ে ওঠার পথ তৈরি হতে পারে।

সর্বশেষ