শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোহিনূর কেমিক্যালস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ। ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যৎ মূলধনি চাহিদা বিবেচনায় এ প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ ক্যাশ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে কোম্পানিটি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বর্তমানে কোহিনূর কেমিক্যালসের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা। এ মূলধন ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৫ কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত। পরিচালনা পর্ষদের প্রস্তাব অনুযায়ী, অনুমোদিত মূলধন বাড়িয়ে ২০০ কোটি টাকা করা হলে তা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২০ কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত থাকবে। অর্থাৎ প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ও সাধারণ শেয়ারের সংখ্যা—দুটিই বর্তমানের চার গুণ হবে।
এ জন্য কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধির সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো সংশোধনের প্রস্তাবও করা হয়েছে। তবে মূলধন বৃদ্ধি ও সংশ্লিষ্ট সংশোধনী কার্যকর করতে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আগামী ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হবে।
শেয়ারহোল্ডারদের ৩২.৫০ শতাংশ ডিভিডেন্ডের সুপারিশ
অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য মোট ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে কোহিনূর কেমিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যে ২০ শতাংশ ক্যাশ এবং ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড রয়েছে।
কোম্পানিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে শেয়ারহোল্ডাররা ২ টাকা ক্যাশ ডিভিডেন্ড পাবেন। পাশাপাশি প্রতি ১০০টি শেয়ারের বিপরীতে ১২ দশমিক ৫০টি নতুন শেয়ার পাওয়ার অধিকার সৃষ্টি হবে। তবে স্টক ডিভিডেন্ড বিতরণ প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল।
আয় ও সম্পদমূল্য বেড়েছে, কমেছে নগদ প্রবাহ
সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে কোহিনূর কেমিক্যালসের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১৭ টাকা ৬৮ পয়সা। আগের অর্থবছরে পুনর্নির্ধারিত হিসাবে এ আয় ছিল ১৫ টাকা ৫০ পয়সা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২ টাকা ১৮ পয়সা বা প্রায় ১৪ দশমিক ০৬ শতাংশ।
শেয়ারপ্রতি আয়ের পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও (এনএভি) বেড়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে এনএভি দাঁড়িয়েছে ৭১ টাকা ১ পয়সা। আগের অর্থবছরে পুনর্নির্ধারিত হিসাবে এ পরিমাণ ছিল ৫৯ টাকা ২৪ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ১১ টাকা ৭৭ পয়সা বা প্রায় ১৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
তবে আয় ও সম্পদমূল্যে প্রবৃদ্ধি হলেও পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহে (এনওসিএফপিএস) অবনতি হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে এ সূচক দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৭৭ পয়সা। আগের অর্থবছরে পুনর্নির্ধারিত হিসাবে তা ছিল ১৫ টাকা ৮৮ পয়সা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ কমেছে ৭ টাকা ১১ পয়সা বা প্রায় ৪৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
অর্থাৎ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির মুনাফা ও নিট সম্পদমূল্য বাড়লেও পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থের প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
স্টক ডিভিডেন্ডের অর্থ যেসব কাজে ব্যবহার হবে
কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড সংরক্ষিত মুনাফা থেকে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কোম্পানির মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ধরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, স্টক ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে সংরক্ষিত অর্থ মূলধনি যন্ত্রপাতি ক্রয়, নির্মাণকাজ এবং বড় ধরনের সংস্কার ও যন্ত্রপাতির পুনঃসংস্কার কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।
পরিচালনা পর্ষদ আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবিত স্টক ডিভিডেন্ড সম্পূর্ণভাবে কোম্পানির পুঞ্জীভূত মুনাফা থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মূলধনি সংরক্ষিত তহবিল, পুনর্মূল্যায়ন সংরক্ষিত তহবিল কিংবা কোনো অবাস্তবায়িত মুনাফা ব্যবহার করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার আগের কোনো মুনাফা থেকেও ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়নি।
এ ছাড়া পরিশোধিত মূলধন কমিয়ে বা এমন কোনো পদ্ধতিতে স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়া হচ্ছে না, যাতে ডিভিডেন্ড বিতরণের পর কোম্পানির সংরক্ষিত মুনাফা ঋণাত্মক বা ডেবিট স্থিতিতে চলে যায়।
১৪ ডিসেম্বর এজিএম ও ইজিএম
কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৪ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে ৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে সভা শুরু হবে। একই দিনে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে দ্বিতীয় বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। উভয় সভাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আয়োজন করা হবে।
এজিএম ও ইজিএমে অংশগ্রহণের যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণে আগামী ১৯ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশ করা ডিভিডেন্ড শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অন্যদিকে, বিশেষ সাধারণ সভায় অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা এবং এ-সংক্রান্ত সংঘস্মারক ও সংঘবিধির সংশোধনী প্রস্তাবের বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
























