টানা ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থ হওয়ায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আরও চার কোম্পানিকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে সরাসরি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্যাটাগরি অবনমন হওয়া কোম্পানিগুলো হলো—বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বিবিএস), ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক (আইএসএন), দেশবন্ধু পলিমার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। নতুন করে চার কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যুক্ত হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ক্যাটাগরি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ডিভিডেন্ড দিতে না পারার কারণে কোম্পানিগুলোকে নিম্নমানের এই ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর ফলে শুধু কোম্পানিগুলোর শ্রেণিগত অবস্থানই পরিবর্তন হয়নি, শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের কিছু সুবিধাও সীমিত হয়েছে।
মার্জিন ঋণ সুবিধা পাবেন না বিনিয়োগকারীরা
‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামার ফলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ এসব শেয়ারে নতুন করে বিনিয়োগ করতে হলে বিনিয়োগকারীদের নিজস্ব অর্থ ব্যবহার করতে হবে। ঋণ বা লিভারেজ নিয়ে শেয়ার কেনার সুযোগ থাকবে না।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, মার্জিন ঋণের সুবিধা বন্ধ হওয়ায় এসব শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমতে পারে। বিশেষ করে যেসব বিনিয়োগকারী ঋণনির্ভর লেনদেন করেন, তারা এসব শেয়ার কেনা থেকে বিরত থাকতে পারেন। এতে শেয়ারগুলোর লেনদেন ও তারল্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত আইসিবির ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে যাওয়ার বিষয়টিও বাজারসংশ্লিষ্টদের নজরে এসেছে। কারণ, শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা ও অবস্থান বিবেচনায় এ ধরনের অবনমন বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থতার কারণ আর্থিক দুর্বলতা
কোম্পানিগুলোর ক্যাটাগরি অবনমনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ডিভিডেন্ড দিতে না পারা। সাধারণত কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা, মুনাফা এবং শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দেওয়ার ধারাবাহিকতা বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব ক্ষেত্রে দুর্বলতা দেখা দিলে কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যেতে পারে।
ব্যবসায়িক আয় কমে যাওয়া, দেনা ও সুদ পরিশোধের চাপ এবং জমে থাকা লোকসানের মতো বিষয়গুলো কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে চারটি কোম্পানির প্রত্যেকটির আর্থিক দুর্বলতার ধরন ও মাত্রা এক নয়। তাই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন, নগদ প্রবাহ, দায় ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি।
বাড়ছে ‘জেড’ ক্যাটাগরি নিয়ে উদ্বেগ
নতুন করে চার কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামায় শেয়ারবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব বিনিয়োগকারী কোম্পানির আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন না বুঝে শুধু শেয়ারদরের ওঠানামার ভিত্তিতে বিনিয়োগ করেন, তাদের জন্য এ ধরনের ক্যাটাগরি পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্বল আর্থিক অবস্থায় থাকা কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার, আয় বৃদ্ধি এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক তথ্য প্রকাশ, সুশাসন ও পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারিও জোরদার করা জরুরি।
ক্যাটাগরি পরিবর্তন নিজে কোনো কোম্পানির ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক ফলাফল নির্ধারণ করে না। তবে এটি কোম্পানির আর্থিক ও ডিভিডেন্ড-সংক্রান্ত অবস্থার বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। তাই ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের আগে ঝুঁকি ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন।
























