ঢাকা   বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

তিন বছর ভর্তি না থাকায় ৮৬ কারিগরি প্রতিষ্ঠানে বোর্ডের কড়া পদক্ষেপ

শিক্ষা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:৩৭, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

তিন বছর ভর্তি না থাকায় ৮৬ কারিগরি প্রতিষ্ঠানে বোর্ডের কড়া পদক্ষেপ

টানা তিন বছর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না করায় দেশের ৮৬টি বেসরকারি ডিপ্লোমা পর্যায়ের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন ও স্বীকৃতি বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কেন পাঠদানের অনুমোদন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে বোর্ড।

গত রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক প্রকৌশলী বি এম আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বোর্ডের আওতাধীন এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল এবং ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের ৮৬টি গত তিন বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করেনি। অথচ পাঠদানের অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান পরপর তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না করলে তার পাঠদানের অনুমোদন বাতিল করার বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ডিপ্লোমা পর্যায়ের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২০-এর উপনীতি ৫.৪ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরিসহ অনুমোদনের সময় আরোপিত অন্যান্য শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড পাঠদানের অনুমতি বাতিল করতে পারে।

এই অবস্থায় তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ পাঠদানের অনুমোদন কেন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকায় রয়েছে

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে ৮৬টি প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হলেও আপনার দেওয়া তালিকায় ৮০টি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—

পঞ্চগড়: মাইনাল প্রাইভেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

ঠাকুরগাঁও: মাদারল্যান্ড অ্যান্ড পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, পীরগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

দিনাজপুর: টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট।

রংপুর: বেইলি ব্রিজ এগ্রিকালচার অ্যান্ড পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, মুসলিম এইড ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, কেরামোতিয়া ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, এস এফ আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, মেট্রোপলিটান প্রাইভেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, রংপুর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মিঠাপুকুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট ও প্যাসিফিক ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট।

গাইবান্ধা: ইউনিক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, আরিফ রাব্বী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ড. জেড. আই. চৌধুরী এগ্রিকালচার ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট।

রাজশাহী: প্রাইম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, প্রকাউসল প্রগতি ইনস্টিটিউট, পপুলার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ক্যাম্পাস পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, ইউনাইটেড টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট ও দ্য নর্থ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

নওগাঁ: ইউনিভার্সাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, মহাদেবপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: গ্লোবাল পলিটেকনিক অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, নিউ ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ও ইম্পেরিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

সিরাজগঞ্জ: যমুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কাজীপুর পলিটেকনিক অ্যান্ড টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট ও নর্দান টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট।

নাটোর: নর্থ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

কুষ্টিয়া: ভেরামারা পলিটেকনিক অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট ও আদর্শ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

মেহেরপুর: গাংনী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

মাগুরা: প্রেসিডেন্সি প্রাইভেট ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।

নড়াইল: নড়াইল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ও লোহাগড়া সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট।

যশোর: মনিরামপুর মডেল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, অক্সফোর্ড প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট ও আহসানিয়া মিশন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

সাতক্ষীরা: বুশরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও কালিয়াগঞ্জ মডেল প্রাইভেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

খুলনা: সুন্দরবন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, স্কয়ার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, পাবলিক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, ডিজিটাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ইউনিক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও নর্দান পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ সিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়।

ফরিদপুর: বাংলাদেশ কম্পিউটার অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট, আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড এগ্রিকালচার, আদর্শ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও মডার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড এগ্রিকালচার।

ঢাকা: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, মুসলিম এইড ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মাইক্রো ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও নর্দান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

নারায়ণগঞ্জ: মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার ইনস্টিটিউট।

নরসিংদী: মাধবদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট।

টাঙ্গাইল: ধনবাড়ি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কলেজ ও এলেঙ্গা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।

শেরপুর: শেরপুর ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি ও আদর্শ কারিগরি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।

কুমিল্লা: ল্যান্ডমার্ক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, লাকসাম মডার্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও লুৎফুন্নেসা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

রাজবাড়ী: রাজবাড়ী কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ও রাজবাড়ী ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

জামালপুর: জামালপুর কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ও জামালপুর মডেল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

নোয়াখালী: নোয়াখালী আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

বরগুনা: আখতার মোরশেদ এগ্রিকালচার টেকনোলজি ইনস্টিটিউট।

ফেনী: আল মদিনা কিরিশী প্রাযুক্তি ইনস্টিটিউট।

বোর্ডের প্রকাশিত তালিকায় মোট ৮৬টি প্রতিষ্ঠান থাকার কথা বলা হলেও এখানে ৮০টি প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ছয়টি প্রতিষ্ঠানের নাম আপনার দেওয়া তালিকায় অনুপস্থিত রয়েছে। তাই পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এখন এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যা পর্যালোচনার পরই পাঠদানের অনুমোদন বাতিল বা প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সর্বশেষ