শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের মুনাফায় বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৯৭ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ টাকা ৭১ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে প্রায় ১৩২ শতাংশ।
কোম্পানিটির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্রয় আয় ও কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বৃদ্ধি, স্থগিত কর আয় এবং নতুন এলাকায় বিপণন কার্যক্রম সম্প্রসারণের কারণে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ২৪ পয়সা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ টাকা ৩৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭২ পয়সা। আর তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৩৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৭৫ পয়সা।
মুনাফার পাশাপাশি পরিচালন নগদ প্রবাহেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৭৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১ টাকা ৭৩ পয়সা। অর্থাৎ এ সূচক বেড়েছে প্রায় ২৩১ শতাংশ। কোম্পানির মতে, গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় বৃদ্ধি পাওয়ায় নগদ প্রবাহে উন্নতি হয়েছে।
এদিকে, ২০২৫ সালের জুন শেষে পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৪০ টাকা ৮৫ পয়সা। চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা ২৫ পয়সা। অর্থাৎ নয় মাসে সম্পদমূল্য বেড়েছে প্রায় ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও বেড়ে হয়েছে ৫৭ টাকা ৪৬ পয়সা।
এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পরিচালক ও উদ্যোক্তাদের বাদ দিয়ে অন্য শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছিল। এবার মুনাফা ও নগদ প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির কারণে আগের চেয়ে বেশি ডিভিডেন্ডের প্রত্যাশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ডিভিডেন্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
তবে মুনাফা ১৩২ শতাংশ বাড়লেও ডিভিডেন্ড একই হারে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। স্থগিত কর আয়ের প্রভাব, ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণের ব্যয় ও নগদ অর্থের প্রাপ্যতা বিবেচনা করেই লভ্যাংশের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ফলে এবার ১০ শতাংশের বেশি ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়া হবে কি না, তা জানতে পরিচালনা পর্ষদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে বিনিয়োগকারীদের।
























