ঢাকা   মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফার বড় উত্থান, প্রিমিয়ার সিমেন্টের ডিভিডেন্ডে কী প্রভাব পড়বে?

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:১৭, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফার বড় উত্থান, প্রিমিয়ার সিমেন্টের ডিভিডেন্ডে কী প্রভাব পড়বে?

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসির আর্থিক ফলাফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের দুর্বলতা কাটিয়ে তৃতীয় প্রান্তিকে বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র দেখা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ৪৮১ শতাংশ বেড়েছে।

এর ফলে প্রথম নয় মাসের সম্মিলিত শেয়ারপ্রতি আয় ৬৭ পয়সা থেকে বেড়ে ১ টাকা ৯৯ পয়সায় পৌঁছেছে। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও বেড়েছে। তবে মুনাফার এই উত্থানের বিপরীতে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থের প্রবাহ কমেছে। পাশাপাশি একীভূতকরণ ও মূলধন পুনর্গঠনের উদ্যোগের আর্থিক প্রভাব এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এমন পরিস্থিতিতে আগের অর্থবছরের ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের তুলনায় এবার বেশি লভ্যাংশ মিলবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

কোম্পানির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৯৯ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৬৭ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ১ টাকা ৩২ পয়সা, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ১৯৭ শতাংশ। তবে এই প্রবৃদ্ধি এসেছে মূলত অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের শক্তিশালী ফলাফলের কারণে। প্রথম দুই প্রান্তিকে আয় কম থাকায় পুরো সময়ের আর্থিক চিত্র বুঝতে প্রান্তিকভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে, তৃতীয় প্রান্তিকে বড় প্রত্যাবর্তন

২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রিমিয়ার সিমেন্টের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১৪ পয়সা। অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিকে আয় কমেছে ২ পয়সা বা প্রায় ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। তবে এই সময়ে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়েছিল।

প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ৩ টাকা ৪৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ২ টাকা ৯৬ পয়সা। ফলে এই সূচকে উন্নতি হয়েছে ৫২ পয়সা বা প্রায় ১৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ৬৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৬৪ টাকা ৬৩ পয়সায় দাঁড়ায়।

কিন্তু দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে আয়ের পরিস্থিতি আরও দুর্বল হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় নেমে আসে ৭ পয়সায়। আগের বছরের একই প্রান্তিকে আয় ছিল ২৩ পয়সা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে ১৬ পয়সা বা প্রায় ৬৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

প্রথম দুই প্রান্তিকের ফলাফল একত্রে হিসাব করলে দুর্বলতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৩৬ পয়সা। অর্থাৎ প্রথমার্ধে শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে ১৭ পয়সা বা প্রায় ৪৭ দশমিক ২২ শতাংশ।

এই ছয় মাসে নগদ প্রবাহেও অবনতি দেখা যায়। শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ৫ টাকা ৪৮ পয়সা থেকে কমে ৩ টাকা ৬৭ পয়সায় নেমে আসে। অর্থাৎ হ্রাসের পরিমাণ ১ টাকা ৮১ পয়সা বা প্রায় ৩৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ৬৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে ৬৩ টাকা ৭০ পয়সা হয়।

তবে অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফলে বড় পরিবর্তন আসে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ টাকা ৮০ পয়সায়। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩১ পয়সা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে ১ টাকা ৪৯ পয়সা বা প্রায় ৪৮১ শতাংশ।

তৃতীয় প্রান্তিকের এই ফলাফলের কারণে প্রথম ছয় মাসের দুর্বলতা কাটিয়ে নয় মাসের সম্মিলিত আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে কোম্পানিটি। তবে প্রকাশিত আর্থিক তথ্যের বাইরে তৃতীয় প্রান্তিকে আয় এতটা বাড়ার নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তাই একীভূতকরণ কিংবা মূলধন পুনর্গঠনের উদ্যোগকেই এই প্রবৃদ্ধির প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

একীভূতকরণে আর্থিক কাঠামো বদলের উদ্যোগ

প্রিমিয়ার সিমেন্টের ভবিষ্যৎ আর্থিক অবস্থার মূল্যায়নে কোম্পানিটির একীভূতকরণ পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ প্রিমিয়ার পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড এবং ন্যাশনাল সিমেন্ট মিলস লিমিটেডকে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসির সঙ্গে একীভূত করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর আগে কোম্পানির বিশেষ সাধারণ সভায় একীভূতকরণ পরিকল্পনাটি অনুমোদিত হয়েছিল।

হাইকোর্ট বিভাগ ২০২৫ সালের ১২ ও ২৭ নভেম্বর বিষয়টি নিয়ে শুনানি করে। পরে ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি চূড়ান্ত রায় ও আদেশ দেওয়া হয়। কোম্পানিটি ওই আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি পায় ২৮ জানুয়ারি। আদালতের নির্দেশনা ও আদেশের শর্ত অনুযায়ী একীভূতকরণ বাস্তবায়নের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ, দায় এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম একক কাঠামোর আওতায় আসতে পারে। তবে এতে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার কতটা উন্নতি হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থা এবং সম্মিলিতভাবে ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতার ওপর। শুধু একীভূতকরণ অনুমোদিত হওয়াকে তাৎক্ষণিক মুনাফা বৃদ্ধির প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।

১৬১ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদন

আর্থিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসে আরেকটি পদক্ষেপ নিয়েছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটিকে ৩২২টি সম্পূর্ণ পরিশোধিত, রূপান্তর-অযোগ্য, অংশগ্রহণবিহীন ও ক্রমপুঞ্জীভূত অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দিয়েছে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ৫০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এই প্রক্রিয়ায় ১৬১ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদন পাওয়া গেছে।

কোম্পানির ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংগৃহীত অর্থ দিয়ে বিদ্যমান ব্যালান্স শিট পুনর্গঠন এবং উচ্চ ব্যয়ের স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধ করা হবে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে স্বল্পমেয়াদি আর্থিক দায়ের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে অর্থায়ন ব্যয় কমানো সম্ভব হলে ভবিষ্যতে মুনাফার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন পাওয়া এবং অর্থ সংগ্রহ ও দায় পরিশোধ সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। অর্থায়ন ব্যয় কমার সম্ভাব্য সুবিধা আর্থিক হিসাবে প্রতিফলিত হতে হলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে হবে। তাই ১৬১ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদনকে তৃতীয় প্রান্তিকে আয় বৃদ্ধির সরাসরি কারণ হিসেবে দেখার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

ঋণমানেও রয়েছে ইতিবাচক মূল্যায়ন

ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি প্রিমিয়ার সিমেন্টকে দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-২’ ঋণমান দিয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির ঋণমানের পূর্বাভাস স্থিতিশীল রাখা হয়েছে।

২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক তথ্য এবং অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। ঋণমান কোম্পানিটির আর্থিক দায় পরিশোধের সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা দিলেও এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে মুনাফা বা ডিভিডেন্ড অবশ্যই বাড়বে।

আয় বাড়লেও নগদ প্রবাহ কমেছে

প্রিমিয়ার সিমেন্টের নয় মাসের আর্থিক ফলাফলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে মুনাফা ও নগদ প্রবাহের মধ্যে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ৪ টাকা ৬২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৬ টাকা ৮ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ কমেছে ১ টাকা ৪৬ পয়সা বা প্রায় ২৪ দশমিক ০১ শতাংশ।

শেয়ারপ্রতি আয় ও পরিচালন নগদ প্রবাহ দুটি ভিন্ন বিষয়। আয় নির্ধারিত হয় নির্দিষ্ট সময়ের হিসাবভিত্তিক মুনাফা থেকে। অন্যদিকে, পরিচালন নগদ প্রবাহের মাধ্যমে ব্যবসা থেকে বাস্তবে নগদ অর্থ আসা-যাওয়ার চিত্র পাওয়া যায়। ফলে মুনাফা বাড়লেও নগদ প্রবাহ কমে গেলে ঋণ পরিশোধ, দৈনন্দিন ব্যয় এবং লভ্যাংশ বিতরণের জন্য অর্থের প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকা ৫০ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন এই মূল্য ছিল ৬৪ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ নয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ১ টাকা বা প্রায় ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

প্রথম ছয় মাসে সম্পদমূল্য কমলেও তৃতীয় প্রান্তিক শেষে তা আগের অর্থবছরের সমাপনী অবস্থানের চেয়ে বেশি হয়েছে। আয় ও সম্পদমূল্যের এই উন্নতি ইতিবাচক হলেও পরিচালন নগদ প্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না। কোম্পানির নগদ অর্থের প্রকৃত অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক দায় বিবেচনা না করে শুধু আয় ও সম্পদমূল্যের ভিত্তিতে ডিভিডেন্ড বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন।

এবার কি ১০ শতাংশের বেশি ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেবে?

প্রিমিয়ার সিমেন্ট ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছিল। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হবে। চলতি অর্থবছরের ডিভিডেন্ডের হার এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

এবার লভ্যাংশ বাড়ানোর পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয়ের উল্লেখযোগ্য উন্নতি। আগের বছরের একই সময়ে ৬৭ পয়সা আয় হলেও এবার তা বেড়ে ১ টাকা ৯৯ পয়সা হয়েছে। বিশেষ করে তৃতীয় প্রান্তিকে ১ টাকা ৮০ পয়সা আয় হওয়ায় সম্মিলিত ফলাফল শক্তিশালী হয়েছে।

অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকেও আয় ভালো থাকলে এবং নিরীক্ষিত হিসাবে পর্যাপ্ত বিতরণযোগ্য মুনাফা পাওয়া গেলে আগের বছরের ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের চেয়ে বেশি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি একীভূতকরণ এবং মূলধন পুনর্গঠনের পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে আর্থিক ব্যয় কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে এই সম্ভাবনার বিপরীতে রয়েছে নগদ প্রবাহের দুর্বলতা। পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থের প্রবাহ কম থাকলে কোম্পানিকে ঋণ পরিশোধ, মূলধনি ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক প্রয়োজন মেটানোর জন্য অর্থ সংরক্ষণ করতে হতে পারে। ফলে মুনাফা বাড়লেও ডিভিডেন্ড একই হারে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

এ ছাড়া প্রথম দুই প্রান্তিকে আয় কমে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। তৃতীয় প্রান্তিকের বড় প্রবৃদ্ধি নয় মাসের ফলাফলকে উন্নত করেছে। কিন্তু এই আয় বৃদ্ধির পেছনে কোন খাত কতটা অবদান রেখেছে, তা প্রকাশিত তথ্য থেকে স্পষ্ট নয়। তাই একটি প্রান্তিকের ফলাফল দেখে পুরো বছরের মুনাফা একই গতিতে বাড়বে বলে ধরে নেওয়া যুক্তিসংগত হবে না।

বিনিয়োগকারীদের নজর এখন পর্ষদ সভায়

সামগ্রিকভাবে প্রিমিয়ার সিমেন্টের চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের আর্থিক প্রতিবেদনে মিশ্র চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম দুই প্রান্তিকে আয় কমলেও তৃতীয় প্রান্তিকে বড় উল্লম্ফন হয়েছে। এতে নয় মাসের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের ৬৭ পয়সা থেকে বেড়ে ১ টাকা ৯৯ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও বেড়েছে। তবে পরিচালন নগদ প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় কমেছে এবং তৃতীয় প্রান্তিকের আয় বৃদ্ধির নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে পূর্ণ বছরের নিরীক্ষিত মুনাফা, পরিচালন নগদ প্রবাহ এবং মূলধন পুনর্গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি। এসব সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন এলে বেশি ডিভিডেন্ড দেওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে। বিপরীতে নগদ অর্থের প্রাপ্যতা ও আর্থিক দায়ের চাপ বেশি থাকলে আগের বছরের ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তও আসতে পারে।

অতএব, প্রিমিয়ার সিমেন্টের ডিভিডেন্ড বাড়ার সম্ভাবনার পেছনে আয় বৃদ্ধির শক্তিশালী যুক্তি থাকলেও এখনই তা নিশ্চিত ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। আগামী ২৭ অক্টোবরের পরিচালনা পর্ষদ সভায় নিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফল পর্যালোচনা এবং কোম্পানির আনুষ্ঠানিক লভ্যাংশ সুপারিশ প্রকাশের পরই এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

 

সর্বশেষ