ঢাকা   মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

১৫ টাকার শেয়ার ৪২, এখন ১১ টাকা: দরপতন ও ডিভিডেন্ড না দেওয়ায় বিপাকে বিনিয়োগকারীরা

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৩৫, ২০ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২০:৩২, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

১৫ টাকার শেয়ার ৪২, এখন ১১ টাকা: দরপতন ও ডিভিডেন্ড না দেওয়ায় বিপাকে বিনিয়োগকারীরা

মাত্র দুই মাসে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর ১৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪২ টাকা ছাড়ায়। এরপর অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির তদন্ত, টানা দরপতন এবং ডিভিডেন্ড না দেওয়ার ঘোষণায় শেয়ারটির দাম নেমে এসেছে ১১ টাকার ঘরে। এতে বড় ধরনের মূলধনি ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

২০১০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ারের দাম গত ১৫ জুন ছিল ১৫ টাকা। পরবর্তী দুই মাসে দর বেড়ে ১২ আগস্ট ৪২ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছায়। তবে এই উত্থানের পেছনে কোম্পানির ব্যবসায়িক পরিস্থিতি বা আর্থিক ভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

শেয়ারটির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তদন্তের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শেয়ারটির দামে নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়। পরে কোম্পানির ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও নেতিবাচক করে তোলে।

সর্বশেষ সোমবার (১৯ অক্টোবর) লেনদেন শেষে শেয়ারটির দাম কমে দাঁড়ায় ১১ টাকা ২০ পয়সায়। অর্থাৎ, ১২ আগস্টের সর্বোচ্চ দরের তুলনায় শেয়ারপ্রতি মূল্য কমেছে ৩০ টাকা ৯০ পয়সা। শতাংশের হিসাবে পতন প্রায় ৭৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। এমনকি গত ১৫ জুনের দামের চেয়েও বর্তমানে শেয়ারটির দর কম।

ডিভিডেন্ড না দেওয়ায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাচ্ছে

শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ টানা দুই বছর বিনিয়োগকারীদের কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি। এ কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কোম্পানিটিকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে নতুন ক্যাটাগরিতে লেনদেন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ক্যাটাগরি পরিবর্তনের খবরের প্রভাবে সোমবার এক দিনেই শেয়ারটির দর কমেছে ১১ দশমিক ৮১ শতাংশ। ডিভিডেন্ড-সংক্রান্ত ঘোষণার কারণে সেদিন শেয়ারটির দামের ওঠানামায় সার্কিট ব্রেকারের সীমা কার্যকর ছিল না। ফলে বিক্রির চাপ বাড়ে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোনো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। এ সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী ২৪ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ডাকা হয়েছে। সভার রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ নভেম্বর।

সোমবার শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের প্রায় ৯০ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এসব শেয়ারের মোট লেনদেনমূল্য ছিল ১০ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

মুনাফা থেকে লোকসানে কোম্পানি

কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনেও ব্যবসায়িক দুরবস্থার চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ অর্থবছরে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১১ পয়সা। কিন্তু ২০২৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৩৯ পয়সা লোকসান হয়েছে।

একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও (এনএভি) কমেছে। ২০২৫ অর্থবছরে যেখানে এনএভি ছিল ১০ টাকা ৮ পয়সা, সেখানে ২০২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ৭ টাকা ৬৮ পয়সায়। তবে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ আগের বছরের ঋণাত্মক ১ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে বেড়ে ইতিবাচক ৫২ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩১ শতাংশের বেশি শেয়ার

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের ৩৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় আছে ৩১ দশমিক ৯৭ শতাংশ। বাকি ৩১ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির পর শেয়ারটির বড় পতন এবং ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য একসঙ্গে দুটি বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। কোম্পানির আর্থিক অবস্থার অবনতি ও ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের ফলে শেয়ারটির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

সর্বশেষ