ঢাকা   বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

প্রতিমা বিসর্জনে বিদায় দেবী দুর্গার, শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

জাতীয়

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:৪৮, ২১ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

প্রতিমা বিসর্জনে বিদায় দেবী দুর্গার, শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

টানা পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় নিয়েছেন দেবী দুর্গা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ওয়াইজঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

দুপুর থেকেই ঢাক-ঢোল ও কাঁসর-ঘণ্টার বাদ্যে রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে শোভাযাত্রা করে প্রতিমাগুলো ওয়াইজঘাটে আনা হয়। পরে নৌকায় করে নদীর মাঝখানে নিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয় দেবী দুর্গার প্রতিমা। এ সময় উৎসবের আনন্দ ছাপিয়ে ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করে বিদায়ের বিষাদ।

কেউ অশ্রুসজল চোখে দেবীকে বিদায় জানান, কেউ করেন বন্দনা। আবার কেউ শেষ মুহূর্তে মায়ের কাছে নিজের ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন। অনেকে নদীর পানি নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের শরীরে ছিটিয়ে নেন।

মহাখালী থেকে বাবার সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে আসা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়স্মিতা বলে, দশমীর লগ্ন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মন খারাপ হতে থাকে। মা চলে যাচ্ছেন, এতে খুব কষ্ট লাগছে। গত কয়েক দিন মাকে ঘিরে আনন্দে কেটেছে। দেবীর কাছে তার প্রার্থনা, দেশ থেকে সব ধরনের অপশক্তি দূর হোক, দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক এবং সবাই ভালো থাকুক।

পুরান ঢাকার হাজারীবাগ গণকটুলী থেকে আসা রীমা রানী বলেন, পূজার দিনগুলো আনন্দে কেটেছে। দেবী দুর্গা তাঁদের মাঝে থাকায় চারপাশ উৎসবমুখর ছিল। এখন বিদায়ের সময় মন ভারাক্রান্ত। আবার মায়ের আগমনের জন্য এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। তিনি দেশজুড়ে শান্তি, মানুষের সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

ধানমন্ডি থানা পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শ্রী রাজিব কুন্ডু বাংলানিউজকে বলেন, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তাঁরা দেবীকে বিদায় জানাচ্ছেন। অশুভ শক্তির বিনাশ ও মানুষের কল্যাণের জন্য দেবী দুর্গার আগমন। তাঁর কাছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যায়-অপরাধ দূর হওয়া এবং দেশ সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ার প্রার্থনা করেছেন তাঁরা।

দশমীর সকালে বিভিন্ন মণ্ডপ ও মন্দিরে পূজার অন্যতম প্রধান আচার সিঁদুর খেলা অনুষ্ঠিত হয়। নারীরা দেবী দুর্গার পায়ে সিঁদুর নিবেদন করে শ্রদ্ধা জানান। পরে একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে সুখ, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন।

এদিকে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীতে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিসর্জন কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কয়েক স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়। শোভাযাত্রা ও বিসর্জনস্থলে পুলিশের বিশেষায়িত দল সোয়াট, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কয়েক শ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন বলেন, ওয়াইজঘাটসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন। পুলিশের সঙ্গে নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করেছে।

তিনি আরও জানান, গত বছর প্রতিমা বিসর্জনের জন্য একটি স্থান নির্ধারিত থাকলেও এবার তিনটি স্থান রাখা হয়েছে। প্রতিমাবাহী ট্রাকের চলাচল সহজ করতে সড়ক একমুখী করা হয়েছে। এতে নির্ধারিত পথে ট্রাকগুলো বিসর্জনস্থলে প্রবেশ করতে এবং বিসর্জন শেষে সহজে বের হতে পারে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাও।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। বিদায়ের বেদনা নিয়ে ভক্তরা অপেক্ষায় থাকবেন দেবী দুর্গার পরবর্তী আগমনের।

সর্বশেষ