ঢাকা   বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

বৈদেশিক মুদ্রার লোকসান কমায় মুনাফায় বড় উল্লম্ফন, বেশি ডিভিডেন্ডের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২৭, ২১ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

বৈদেশিক মুদ্রার লোকসান কমায় মুনাফায় বড় উল্লম্ফন, বেশি ডিভিডেন্ডের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেডের (বিপিপিএল) মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৮৬ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৭৪ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে প্রায় ২৮৬ শতাংশ।

কোম্পানিটির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রাজনিত লোকসান কমে আসা এবং অর্থায়ন ব্যয় হ্রাসের কারণে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৬৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি ১৩ পয়সা লোকসান হয়েছিল। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে আয় হয়েছে ৭৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ১ পয়সা। আর ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৮৭ পয়সা।

এদিকে, ২০২৫ সালের জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২৭ টাকা ৭২ পয়সা। চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৩৪ পয়সা। অর্থাৎ নয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

তবে মুনাফা বাড়লেও পরিচালন নগদ প্রবাহে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ছিল ঋণাত্মক ৮ টাকা ৬২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ঋণাত্মক ৫ টাকা ৪৮ পয়সা। কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থপ্রাপ্তি কমে যাওয়ায় নগদ প্রবাহের এই অবনতি হয়েছে।

নগদ প্রবাহের দুর্বলতা ডিভিডেন্ড বাড়ানোর ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কারণ, মুনাফা বাড়লেও নগদ অর্থের প্রাপ্যতা কম থাকলে লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হতে পারে।

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি ২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। এবার এর চেয়ে বেশি ডিভিডেন্ড দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের ডিভিডেন্ড এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

সব মিলিয়ে, মুনাফা ও নিট সম্পদমূল্য বৃদ্ধির কারণে বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের আর্থিক প্রতিবেদনে ইতিবাচক চিত্র দেখা যাচ্ছে। তবে পরিচালন নগদ প্রবাহের অবনতি বিবেচনায় নিয়ে ডিভিডেন্ডের সিদ্ধান্তের জন্য পূর্ণ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফল ও পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

সর্বশেষ