বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। পরে শক্তি বাড়িয়ে বুধবার নাগাদ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টায় এর কেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। পরে এটি শক্তিশালী হয়ে বুধবার নাগাদ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ায় এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে দেশের কয়েকটি স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার থেকে পরবর্তী দুই দিন দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর পরিস্থিতি নির্ভর করবে। এ কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
























