রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে পর্যটন সড়কে টানা ১০ দিন ধরে চলা অবরোধ কর্মসূচি এক দিনের জন্য শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনরত দুটি সংগঠন। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা ও ভোগান্তির বিষয় বিবেচনায় আগামীকাল রোববার এ অবরোধ শিথিল থাকবে। তবে পরদিন সোমবার থেকে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি শুরু হবে।
গতকাল শুক্রবার রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠন দুটির পক্ষে বিজ্ঞপ্তিতে সই করেন বাবুধন চাকমা ও নতুন জয় চাকমা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন ও ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে রোববার এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরদিন থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি আবারও চলবে।
সাজেকে চলমান বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দানোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়েছে সংগঠন দুটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উৎসব উদ্যাপনের ক্ষেত্রে আলোচনা সাপেক্ষে বিশেষ শিথিলতার ব্যবস্থা রাখা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা বিহার কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সংগঠন দুটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অবরোধের পেছনে যে দাবি
গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। এটি সংগঠন দুটির তৃতীয় দফার অবরোধ। তাদের অন্যতম দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (সন্তু লারমা-সমর্থিত জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে হবে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন মনগড়া অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
কয়েক দফায় অবরোধ, বন্ধ পর্যটনকেন্দ্র
চলতি ১১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো এক দিনের অবরোধ কর্মসূচি পালন করে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। তিন দফা দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় অবরোধের ডাক দেয় সংগঠন দুটি। তবে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়। পূজা শেষে ২১ অক্টোবর এক বিজ্ঞপ্তিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় এর পর সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। নির্দেশনা অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর সকাল থেকে পর্যটকেরা সাজেক ছাড়তে শুরু করেন। তবে ফেরার পথে উজো বাজার এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ।
এদিকে সাজেকে অবরোধ চলাকালে হামলা, লাঠিপেটা এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং সাজেকবাসীর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন ২৪ অক্টোবর রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে অর্ধদিবস অবরোধ পালন করে।
























