ঢাকা   রোববার ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

সবুজ অর্থায়নে নতুন উদ্যোগ, ১,০০০ কোটি টাকার গ্রিন বন্ড আনছে ব্র্যাক ব্যাংক

অর্থ ও বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১:২০, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

সবুজ অর্থায়নে নতুন উদ্যোগ, ১,০০০ কোটি টাকার গ্রিন বন্ড আনছে ব্র্যাক ব্যাংক

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের লক্ষ্যে ১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন বন্ড ফাইন্যান্সিং নীতিমালার আওতায় এই উদ্যোগ দেশের মূলধন বাজারে পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করছে ব্যাংকটি।

ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, তিন বছর মেয়াদি বন্ডটি হবে জিরো-কুপন প্রকৃতির। অর্থাৎ, বন্ডের বিপরীতে নির্দিষ্ট বিরতিতে সুদ দেওয়া হবে না। বিনিয়োগকারীরা অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম দামে বন্ড কিনবেন এবং মেয়াদ শেষে অভিহিত মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ পাবেন।

বন্ডের বৈশিষ্ট্য ও সম্ভাব্য মুনাফা

বন্ডটির প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা এতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। পাশাপাশি, অনুমোদন সাপেক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড থেকেও বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বন্ডটি থেকে প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ রিটার্নের প্রত্যাশা করছে। এই হার ধরে ১০ লাখ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি বন্ডের ক্রয়মূল্য হবে আনুমানিক ৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে প্রকৃত ক্রয়মূল্য ও বিনিয়োগকারীর রিটার্ন নির্ভর করবে বন্ডের চূড়ান্ত শর্ত এবং প্রযোজ্য হিসাবপদ্ধতির ওপর।

জিরো-কুপন বন্ডের কর-সুবিধাও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে পারে বলে মনে করছে ব্যাংকটি। তবে বিনিয়োগের আগে প্রযোজ্য করবিধি ও বন্ডের শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।

অর্থ ব্যয় হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে

ব্র্যাক ব্যাংক জানিয়েছে, বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প, পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ এবং শিল্পকারখানায় জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার।

ব্যাংকটির দাবি, গ্রিন বন্ডের কাঠামো আন্তর্জাতিক ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (আইসিএমএ) নীতিমালা অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া কাঠামোটির বিষয়ে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংসের সেকেন্ড-পার্টি মতামত নেওয়া হয়েছে।

এই বন্ডের মাধ্যমে অর্থায়ন জাতিসংঘের চারটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। লক্ষ্যগুলো হলো—সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি (এসডিজি ৭), শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো (এসডিজি ৯), টেকসই নগর ও জনপদ (এসডিজি ১১) এবং জলবায়ু কার্যক্রম (এসডিজি ১৩)।

জ্বালানি সংকটে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রয়োজন

সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রিফাত উল্লাহ খান বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের অনেক শিল্পকারখানা পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, গ্রিন বন্ডটি ব্র্যাক ব্যাংকের টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। একই সঙ্গে এটি দেশের মূলধন বাজারকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বন্ডের অর্থ নির্ধারিত খাতেই ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রতিবছর অডিট করা হবে বলেও জানান তিনি।

টেকসই অর্থায়নে ব্র্যাক ব্যাংকের অবস্থান

ব্যাংকটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যাক ব্যাংকের মোট ঋণ পোর্টফোলিওর ৬০ শতাংশের বেশি টেকসই অর্থায়নের আওতাভুক্ত। পরিবেশ, সমাজ ও সুশাসন—এই তিনটি মানদণ্ডে ব্লুমবার্গের রেটিংয়ে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে থাকার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে ব্যাংকটি একটি সোশ্যাল বন্ড ইস্যু করেছিল।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এই গ্রিন বন্ড পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নের পাশাপাশি দেশের করপোরেট বন্ড বাজারের বিকাশেও সহায়ক হতে পারে।

সর্বশেষ