২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের পর তা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জ্ঞানের পিরামিডে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তরের নাম থাকলেও কোনো প্রতীক বা আইকন রাখা হবে না।
রোববার (২৫ অক্টোবর) এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তরের নাম থাকবে। তবে কোনো আইকন থাকবে না। আগামী বছর এভাবেই যাবে। পরের বছর বিষয়গুলো আরও পরিমার্জন করা হবে, যাতে কোনো ভুল তথ্য না যায়।’
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানোর পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০ লাখ কপি ছাপা শেষে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।
তবে বিতর্কের জেরে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় এনসিটিবি। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে পাঠানো বইগুলো সংগ্রহ করে পুনরায় সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডের সর্বশেষ স্তর ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রতীকের সঙ্গে ছবিটির মিল থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতীকটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনসিটিবি।
যেভাবে প্রজ্ঞার প্রতীক হয়ে উঠল দাঁড়িপাল্লা
আইসিটি বইয়ে ‘উইজডম’ (Wisdom) শব্দটির বাংলা অর্থ ও প্রতীক নিয়ে কয়েক বছর ধরে পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে জ্ঞানের পিরামিডের সর্বশেষ স্তর ‘উইজডম’-এর বাংলা অর্থ হিসেবে ‘বুদ্ধি’ লেখা হয়েছিল। সে সময় এই স্তরের প্রতীক ছিল দাঁড়িপাল্লা।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে প্রতীক পরিবর্তন করে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে মস্তিষ্কের ছবি যুক্ত করা হয়। পরে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই পরিমার্জনের সময় সংশ্লিষ্ট কমিটি ‘বুদ্ধি’র পরিবর্তে ‘প্রজ্ঞা’ শব্দটি ব্যবহারের সুপারিশ করে। একই সঙ্গে প্রতীক হিসেবে মস্তিষ্কের ছবিই রাখার কথা ছিল।
কিন্তু নতুন সংস্করণে ‘প্রজ্ঞা’ শব্দটি যুক্ত হলেও প্রতীক হিসেবে মস্তিষ্কের বদলে আবারও দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়। এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তর থেকে সব ধরনের প্রতীক বা আইকন বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনসিটিবি।
























