ঢাকা   মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

মুনাফায় পতন শেয়ারবাজারের ১০ বহুজাতিক কোম্পানির

জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্বল ভোক্তা চাহিদার চাপ

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৩৪, ৩ নভেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

মুনাফায় পতন শেয়ারবাজারের ১০ বহুজাতিক কোম্পানির

জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্বল ভোক্তা চাহিদার চাপে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১০টি বহুজাতিক কোম্পানির মুনাফায় পতন হয়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ১৩টি বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে ছয়টির মুনাফা কমেছে এবং চারটি কোম্পানি লোকসানে পড়েছে। ফলে মুনাফা হ্রাস ও লোকসান মিলিয়ে অধিকাংশ বহুজাতিক কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

মুনাফা করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবিসি) লিমিটেডের। কোম্পানিটির মুনাফা আগের বছরের একই প্রান্তিকের ৩০৫ কোটি ৪ লাখ টাকা থেকে ৬৭ শতাংশ কমে ৯৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় নেমেছে। বিক্রির পরিমাণ কমে যাওয়াকে এ পতনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের মুনাফা ৪৭ শতাংশ কমে ৬৩ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের মুনাফা ৩৩ শতাংশ কমে ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। লিন্ডে বাংলাদেশের মুনাফা ১৯ শতাংশ কমে ৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় নেমেছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের উচ্চ ব্যয় এবং পণ্য বিতরণ খরচ বৃদ্ধিকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোম্পানিটি।

অন্যদিকে, মুনাফা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও আগের বছরের তুলনায় সামান্য কমেছে মারিকো ও গ্রামীণফোনের। তৃতীয় প্রান্তিকে মারিকোর মুনাফা হয়েছে ১৫৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং গ্রামীণফোনের ৭৫০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

চার কোম্পানির লোকসান

মুনাফা কমার পাশাপাশি চারটি বহুজাতিক কোম্পানির লোকসান সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

লোকসান করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোকসান হয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশের। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির লোকসান ৬১ শতাংশের বেশি বেড়ে ৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৪৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির আয় ৭ শতাংশ বাড়লেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ভোক্তা ইলেকট্রনিকস পণ্যের বাজারে স্থবিরতা এবং ৭৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার নিট অর্থায়ন ব্যয় মুনাফায় চাপ তৈরি করেছে।

হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস বাংলাদেশ আগের বছরের একই সময়ে ৯২ লাখ টাকা মুনাফা করলেও এবার ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা লোকসানে পড়েছে। অন্যদিকে, আরএকে সিরামিকসের লোকসান হয়েছে ৫ কোটি ৯ লাখ টাকা, যদিও আগের বছরের তুলনায় লোকসান কমেছে। বাটা শুর লোকসানও ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা থেকে কমে ৫ কোটি টাকায় নেমেছে।

জ্বালানি সংকটে বেড়েছে পরিচালন ব্যয়

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, তৃতীয় প্রান্তিকে জ্বালানি সংকট বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মুনাফায় বড় আঘাত হেনেছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে মহেশখালীর কাছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে গ্যাস সংকট তীব্র হয়ে ওঠে এবং লোডশেডিং একপর্যায়ে ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।

পাশাপাশি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে বিক্রি ও আয় ধরে রাখার চেষ্টা করেও অনেক কোম্পানি মুনাফা ধরে রাখতে পারেনি।

সামগ্রিকভাবে, তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান ব্যয়চাপ ও দুর্বল চাহিদার প্রভাব তুলে ধরেছে। জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা চাহিদা পুনরুদ্ধার না হলে আগামী প্রান্তিকগুলোতেও এসব কোম্পানির মুনাফায় চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ