জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্বল ভোক্তা চাহিদার চাপে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ১৩টি বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে ছয়টির মুনাফা কমেছে। আর চারটি কোম্পানি লোকসান করেছে। অর্থাৎ তৃতীয় প্রান্তিকে ১০টি কোম্পানির আর্থিক ফল ছিল নেতিবাচক।
মুনাফা কমার তালিকায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবিসি)। কোম্পানিটির মুনাফা আগের বছরের একই প্রান্তিকের ৩০৫ কোটি ৪ লাখ টাকা থেকে ৬৭ শতাংশ কমে ৯৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় নেমেছে। বিক্রির পরিমাণ কমে যাওয়াকে মুনাফা হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ছাড়া লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের মুনাফা ৪৭ শতাংশ কমে ৬৩ কোটি ৯ লাখ টাকা হয়েছে। ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের মুনাফা ৩৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকায়।
লিন্ডে বাংলাদেশের মুনাফা কমেছে ১৯ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছে ৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। জ্বালানি ও বিদ্যুতের উচ্চ ব্যয় এবং পণ্য বিতরণ খরচ বৃদ্ধিকে মুনাফা কমার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে, মারিকো ও গ্রামীণফোনের মুনাফাও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য কমেছে। এ সময়ে মারিকোর মুনাফা হয়েছে ১৫৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং গ্রামীণফোনের ৭৫০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
চার কোম্পানি লোকসানে
মুনাফা কমার পাশাপাশি চারটি বহুজাতিক কোম্পানি লোকসানে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোকসান করেছে সিঙ্গার বাংলাদেশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির লোকসান ৬১ শতাংশের বেশি বেড়ে ৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৪৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
কোম্পানিটির আয় ৭ শতাংশ বাড়লেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ভোক্তা ইলেকট্রনিকস পণ্যের বাজারে স্থবিরতা এবং ৭৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার নিট অর্থায়ন ব্যয় ব্যবসায় চাপ তৈরি করেছে।
এদিকে হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস বাংলাদেশ আগের বছরের একই প্রান্তিকে ৯২ লাখ টাকা মুনাফা করলেও এবার ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা লোকসান করেছে।
আরএকে সিরামিকসের লোকসান হয়েছে ৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। তবে আগের বছরের তুলনায় কোম্পানিটির লোকসান কমেছে। একইভাবে বাটা শুর লোকসানও আগের বছরের ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা থেকে কমে ৫ কোটি টাকায় নেমেছে।
জ্বালানি সংকটে বেড়েছে পরিচালন ব্যয়
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, তৃতীয় প্রান্তিকে জ্বালানি সংকট বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মুনাফায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে মহেশখালীর কাছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।
এর পাশাপাশি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যায়। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বাড়ে।
ফলে অনেক কোম্পানি বিক্রি ও আয় ধরে রাখার চেষ্টা করলেও মুনাফা ধরে রাখতে পারেনি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে গুনতে হয়েছে লোকসান।
























