ঢাকা   বুধবার ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

শেয়ারবাজারে আস্থার সংকট কাটাতে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের, বাড়ল ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের মেয়াদ

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:২৭, ৩ নভেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

শেয়ারবাজারে আস্থার সংকট কাটাতে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের, বাড়ল ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের মেয়াদ

টানা মন্দা, তারল্যসংকট ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতায় বিপর্যস্ত দেশের শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ তহবিল সুবিধার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোর গঠিত বিশেষ তহবিল ব্যবহারের সুযোগ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ কার্যক্রম সচল রাখা এবং বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মূলধনসংকট, বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তায় ভুগছে দেশের শেয়ারবাজার। বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় বাজারে তারল্য প্রবাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ তহবিলের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, ব্যাংকগুলো এই সুবিধা কাজে লাগালে বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারির প্রভাবে শেয়ারবাজারে সৃষ্ট তারল্যসংকট মোকাবিলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশেষ তহবিল গঠনের নীতি চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নীতির আওতায় প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক নিজস্ব অর্থায়ন অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপো সুবিধার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে।

এই তহবিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, এর আওতায় শেয়ারবাজারে করা বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোর প্রচলিত বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিটের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো তাদের নিয়মিত বিনিয়োগসীমার অতিরিক্ত অর্থও এই বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। মূলত ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়ানো এবং বাজারে অতিরিক্ত তারল্য সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।

তবে দীর্ঘ সময় ধরে বাজারের মন্দা পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে শুধু তহবিলের মেয়াদ বাড়ানো যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে বিশেষ তহবিলের আকার বাড়ানোর দাবিও উঠেছে। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) প্রতিটি ব্যাংকের জন্য বিশেষ তহবিলের সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান সুবিধার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০৩১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

ডিবিএর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা আরও বাড়বে। এতে বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ তহবিলের মেয়াদ কিংবা আকার বাড়ালেই শেয়ারবাজারের দীর্ঘদিনের সংকট দূর হবে না। কারণ, বাজারের বর্তমান সংকটের পেছনে শুধু তারল্যসংকট নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা, ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির অভাব, দুর্বল সুশাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তাঁদের মতে, ব্যাংকগুলোর মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগ্রহ তৈরি করা, ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়ানো, বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কারসাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।

সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এই সুবিধার প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে ব্যাংকগুলো কতটা অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহী হয় এবং বাজারের মৌলিক দুর্বলতা কাটাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর।

সর্বশেষ