কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ ও রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুবিধা নিয়ে জনতা ব্যাংক থেকে ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুদকের মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ তথ্য জানান।
দুদকের অভিযোগ, সালমান এফ রহমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠান—স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেড, আরবান ফ্যাশনস লিমিটেড ও মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ঋণ এবং ইডিএফ সুবিধা নিয়ে এসব অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে।
তিনটি মামলায় অভিযোগের পরিমাণ ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি, আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে প্রায় ৪১৭ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে প্রায় ৫৬৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিন মামলায় আসামি ৬৯ জন
প্রথম মামলায় স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। দ্বিতীয় মামলায় আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে ২২ জন এবং তৃতীয় মামলায় মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে সালমান এফ রহমান ছাড়াও রয়েছেন বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিচালক ইকবাল আহমেদ, ওসমান কায়সার চৌধুরী ওরফে ও কে চৌধুরী এবং এ বি সিদ্দিকুর রহমান। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তাকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
যেভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে ঋণ ও ইডিএফ সুবিধা মঞ্জুরের পর ব্যাক-টু-ব্যাক (বিবি) এলসির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির নামে অ্যাকোমডেশন বিল তৈরি করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে দুদক।






















