টানা দরপতনে দেশের শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক নেমেছে পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে। কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। এমন পরিস্থিতিতে বাজারের পতন ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা ও অনাস্থা বাড়ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন স্বাভাবিক। তবে বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কারণ, এখন চলছে কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার মৌসুম। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০০ কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু কোম্পানি উল্লেখযোগ্য হারে লভ্যাংশ দিয়েছে। অথচ লভ্যাংশ ঘোষণার পরও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। বরং দিন দিন দরপতন আরও তীব্র হচ্ছে।
তাদের আশঙ্কা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ডিএসইর প্রধান সূচক শিগগিরই ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যেতে পারে। অথচ বাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ খতিয়ে দেখা কিংবা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। এতে বিনিয়োগকারীদের হতাশা আরও বাড়ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শুধু সংস্কারের ঘোষণা দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়। বাজারকে স্বাভাবিক ও বিনিয়োগের উপযোগী করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ
ধারাবাহিক দরপতন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন, বাজারের পতন ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না কেন?
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা শুধু বাজার সংস্কারের কথা বলছে। কিন্তু বাজার যদি বিনিয়োগের উপযোগী না থাকে, তাহলে এসব উদ্যোগের সুফল কী? বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে শেয়ার কেনার সাহস পাচ্ছেন না তারা। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে বর্তমান কমিশনের পদত্যাগ করা উচিত বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।
ডিএসইর সূচক ও লেনদেন
সোমবার ডিএসইতে সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেনও কমেছে। এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫১ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৩৩ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এটি প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যে সূচকটির সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে গত ২৩ মে সূচকটি ছিল ৫ হাজার ৩২৮ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৮ দশমিক ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৭ দশমিক ৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ২৬ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৪২ দশমিক ১৩ পয়েন্টে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৮৮টির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ২৪৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫১টির দর।
দিনটিতে ডিএসইতে ৪১৮ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৮২ কোটি ১৯ লাখ টাকার। সেই হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৬৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
সিএসইর অবস্থাও নেতিবাচক
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক ও লেনদেন কমেছে। সোমবার বাজারটিতে ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
এদিন সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৬টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৯টির দর।
সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০৪ দশমিক ৬০ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৩৮৯ দশমিক ৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসেও সূচকটি ৮২ দশমিক ০১ পয়েন্ট কমেছিল।
























