দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জীবন বিমা খাতের আটটি কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। আয়-ব্যয়ের ঘাটতি, জীবন বিমা তহবিল কমে যাওয়া এবং পরিচালন নগদ প্রবাহের অবনতি চাপে ফেলেছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে। বিশেষ করে পপুলার লাইফ ও প্রাইম ইসলামী লাইফের ঘাটতি বেড়েছে ব্যাপক হারে। অন্যদিকে পদ্মা ইসলামী লাইফের জীবন বিমা তহবিল রয়েছে ঋণাত্মক অবস্থায়।
দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১৫টি জীবন বিমা কোম্পানির মধ্যে চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ১২টি। এসব প্রতিবেদনের মধ্যে আটটি কোম্পানির আয়-ব্যয়ের হিসাবে ঘাটতি দেখা গেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি আগের বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। আবার কিছু কোম্পানির ঘাটতি কমলেও জীবন বিমা তহবিল ও নগদ অর্থপ্রবাহে নেতিবাচক প্রবণতা রয়েছে।
আর্থিক চাপে থাকা কোম্পানিগুলো হলো—মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
কোম্পানিগুলোর প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, পপুলার লাইফ ও প্রাইম ইসলামী লাইফের আয়-ব্যয়ের ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পদ্মা ইসলামী লাইফের জীবন বিমা তহবিলের ঋণাত্মক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। সোনালী লাইফ আগের বছরের উদ্বৃত্ত থেকে লোকসানে নেমেছে। তবে মেঘনা লাইফ ও সন্ধানী লাইফের কয়েকটি আর্থিক সূচকে উন্নতির চিত্রও রয়েছে।
মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স
মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিকে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি কমেছে। তবে একই সময়ে জীবন বিমা তহবিল ও শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ অর্থপ্রবাহে অবনতি হয়েছে।
কোম্পানিটির জীবন বিমা রাজস্ব হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বিমা দাবি ও অন্যান্য ব্যয়সহ মোট ব্যয় আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা বেশি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ৮ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঘাটতি কমেছে ৫ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
তবে জীবন বিমা তহবিলের চিত্র ইতিবাচক নয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির তহবিল দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫১৬ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তহবিল কমেছে ৮ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ অর্থপ্রবাহও দুর্বল হয়েছে। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সূচক দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১৬ টাকা ৭০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ছিল ঋণাত্মক ১৩ টাকা ৫৯ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ অর্থপ্রবাহে অবনতি হয়েছে ৩ টাকা ১১ পয়সা।
সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স
সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিকে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি বেড়েছে। তবে বছরের প্রথম নয় মাসের হিসাবে ঘাটতি কিছুটা কমেছে।
কোম্পানিটির জীবন বিমা রাজস্ব হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ১ কোটি ৭৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অর্থাৎ তৃতীয় প্রান্তিকে ঘাটতি বেড়েছে ৭৩ লাখ ১০ হাজার টাকা।
তবে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির আয়-ব্যয়ের ঘাটতি হয়েছে ৬ কোটি ৪২ লাখ ১০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮ কোটি ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অর্থাৎ নয় মাসের হিসাবে ঘাটতি কমেছে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এদিকে কোম্পানিটির জীবন বিমা তহবিলেও সংকোচন দেখা গেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে তহবিল দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৮ কোটি ৪৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তহবিল কমেছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স
সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিকে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। তবে প্রথম নয় মাসের হিসাবে ঘাটতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে জীবন বিমা তহবিল।
কোম্পানিটির সমন্বিত জীবন বিমা রাজস্ব হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ঘাটতি হয়েছে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ কোটি ৩২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে ৯ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ৩১ কোটি ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অর্থাৎ নয় মাসের হিসাবে ঘাটতি কমেছে ২৪ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
তহবিলের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে সন্ধানী লাইফের জীবন বিমা তহবিল দাঁড়িয়েছে ৭০৬ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬৬২ কোটি ৭৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তহবিল বেড়েছে ৪৩ কোটি ৮১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স
রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিক ও প্রথম নয় মাস—উভয় সময়েই আয়-ব্যয়ের ঘাটতি বেড়েছে। তবে জীবন বিমা তহবিলে সামান্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
কোম্পানিটির জীবন বিমা রাজস্ব হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ কোটি ৮৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। অর্থাৎ তৃতীয় প্রান্তিকে ঘাটতি বেড়েছে ৩ কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির আয়-ব্যয়ের ঘাটতি হয়েছে ২১ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ফলে নয় মাসের হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে ৩ কোটি ৯৬ লাখ ১০ হাজার টাকা।
তবে জীবন বিমা তহবিল কিছুটা বেড়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে এ তহবিল দাঁড়িয়েছে ৪৭৮ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৭৬ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তহবিল বেড়েছে ২ কোটি ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স
সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদনে বড় ধরনের নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। আগের বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে উদ্বৃত্ত থাকলেও চলতি বছরের একই সময়ে ঘাটতিতে পড়েছে কোম্পানিটি। পাশাপাশি প্রথম নয় মাসের উদ্বৃত্ত ও পরিচালন নগদ অর্থপ্রবাহ কমেছে।
কোম্পানিটির জীবন বিমা রাজস্ব হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি হয়েছে ৪ কোটি ১ হাজার টাকা। অথচ আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির উদ্বৃত্ত ছিল ১৮ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলে ২২ কোটি ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকার নেতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে।
এদিকে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির আয়-ব্যয়ের উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯১ কোটি ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। অর্থাৎ নয় মাসের হিসাবে উদ্বৃত্ত কমেছে ৬১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
তবে জীবন বিমা তহবিল বেড়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির তহবিল দাঁড়িয়েছে ৯২৫ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৯৬ কোটি ৩৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তহবিল বেড়েছে ২৯ কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে পরিচালন নগদ অর্থপ্রবাহে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ঋণাত্মক ৪ টাকা ৭৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ইতিবাচক ৭ টাকা ৯৫ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ অর্থপ্রবাহে নেতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে ১২ টাকা ৭৪ পয়সা।
প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স
প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদনে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি ও জীবন বিমা তহবিল—দুই ক্ষেত্রেই অবনতির চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষ করে তৃতীয় প্রান্তিকে ঘাটতি বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে।
কোম্পানিটির জীবন বিমা রাজস্ব হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০ কোটি ৭৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ৭ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তৃতীয় প্রান্তিকের ঘাটতি বেড়েছে ৫৩ কোটি ৭৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির ঘাটতি হয়েছে ১২০ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১০২ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অর্থাৎ নয় মাসের হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
একই সঙ্গে কমেছে জীবন বিমা তহবিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে এ তহবিল দাঁড়িয়েছে ৬১৯ কোটি ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬৪৭ কোটি ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তহবিল কমেছে ২৭ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স
পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক অবস্থায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো জীবন বিমা তহবিলের ঋণাত্মক অবস্থা। এর পাশাপাশি আগের বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের উদ্বৃত্ত থেকে চলতি বছরের একই সময়ে ঘাটতিতে নেমেছে কোম্পানিটি।
কোম্পানিটির জীবন বিমা রাজস্ব হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি হয়েছে ৪ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অথচ আগের বছরের একই সময়ে ৪৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আর্থিক ফলাফলে ৪ কোটি ৭৩ লাখ ২০ হাজার টাকার নেতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে।
তবে প্রথম নয় মাসের হিসাবে ঘাটতি কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৪ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি কমেছে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
তবে জীবন বিমা তহবিলের ঋণাত্মক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির তহবিল দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৩৩২ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ঋণাত্মক ৩০৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ঋণাত্মক তহবিলের পরিমাণ বেড়েছে ২৫ কোটি ৫৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স
আট কোম্পানির মধ্যে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় অঙ্কের ঘাটতি দেখা গেছে। তৃতীয় প্রান্তিক ও প্রথম নয় মাস—উভয় সময়েই ঘাটতি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে জীবন বিমা তহবিলেও বড় ধরনের পতন হয়েছে।
কোম্পানিটির সমন্বিত জীবন বিমা রাজস্ব হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩২ কোটি ৬ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তৃতীয় প্রান্তিকের ঘাটতি বেড়েছে ১১৩ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ নয় মাসের হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে ১১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
জীবন বিমা তহবিলেও বড় ধরনের সংকোচন হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে পপুলার লাইফের তহবিল দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮২ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৫৮১ কোটি ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তহবিল কমেছে ১৯৮ কোটি ৫৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
তবে কোম্পানিটির পরিচালন নগদ অর্থপ্রবাহে উন্নতি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ অর্থপ্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৮৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৯ টাকা ৩৩ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ বেড়েছে ২ টাকা ৫২ পয়সা।
সার্বিক চিত্র
আটটি জীবন বিমা কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সবকটি প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাবে ঘাটতি রয়েছে। তবে ঘাটতির পরিমাণ ও আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন সব কোম্পানিতে একরকম নয়।
বিশেষ করে পপুলার লাইফ ও প্রাইম ইসলামী লাইফের ঘাটতি বড় আকার ধারণ করেছে। প্রথম নয় মাসে পপুলার লাইফের ঘাটতি ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং প্রাইম ইসলামী লাইফের ১২০ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে পদ্মা ইসলামী লাইফের জীবন বিমা তহবিল ঋণাত্মক অবস্থায় থাকার পাশাপাশি আরও সংকুচিত হয়েছে। মেঘনা, সানলাইফ, প্রাইম ইসলামী ও পপুলার লাইফের জীবন বিমা তহবিলও আগের বছরের তুলনায় কমেছে।
তবে সব সূচকেই অবনতি হয়নি। মেঘনা লাইফের তৃতীয় প্রান্তিকের ঘাটতি কমেছে। সানলাইফ, সন্ধানী লাইফ ও পদ্মা ইসলামী লাইফের প্রথম নয় মাসের ঘাটতিও আগের বছরের তুলনায় কম। এ ছাড়া সন্ধানী ও রূপালী লাইফের জীবন বিমা তহবিল বেড়েছে। পপুলার লাইফের পরিচালন নগদ অর্থপ্রবাহেও উন্নতি হয়েছে।
সব মিলিয়ে জীবন বিমা খাতের আট কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে ঘাটতি ও তহবিল সংকোচনের চাপ স্পষ্ট। বিশেষ করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিপুল অঙ্কের ঘাটতি এবং জীবন বিমা তহবিলের অবনতি উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট সূচকে উন্নতিও রয়েছে। তাই কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়নে শুধু আয়-ব্যয়ের উদ্বৃত্ত বা ঘাটতি নয়, জীবন বিমা তহবিল ও পরিচালন নগদ অর্থপ্রবাহের অবস্থাও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
























