প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা প্রচলিত আইপিওর জটিল প্রক্রিয়া ছাড়াই এবার সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির সরকারি, বেসরকারি এবং বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর জন্য এই সুযোগ উন্মুক্ত করে দিয়ে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ অন দ্য স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’ শীর্ষক বহুল প্রতীক্ষিত বিধিমালাটি আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ গেজেটের বিশেষ অতিরিক্ত সংখ্যায় এই বিধিমালাটি প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিএসইসির পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
নতুন এই বিধিমালার ফলে যোগ্য এবং প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো নতুন করে কোনো শেয়ার ইস্যু না করেই অর্থাৎ আইপিওর মাধ্যমে সরাসরি কোনো তহবিল সংগ্রহ না করে বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে খুব সহজেই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের শেয়ারবাজারে ভালো মানের এবং শক্ত কাঠামোর কোম্পানির অংশগ্রহণ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের গভীরতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
১. শতভাগ কিংবা কমপক্ষে ৫১ শতাংশ সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান।
২. পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি মালিকানাধীন থাকা কোম্পানি।
৩. শতভাগ অথবা কমপক্ষে ৫১ শতাংশ বিদেশি মালিকানাধীন বহুজাতিক বা অন্যান্য কোম্পানি।
৪. সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা নিট সম্পদমূল্য থাকা তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বিমা কোম্পানি।
৫. খসড়া নীতিমালায় বার্ষিক লেনদেন বা সম্পদের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা রাখার প্রাথমিক ধারণা থাকলেও, চূড়ান্ত বিধিমালায় তা সংশোধন করে বার্ষিক লেনদেন কমপক্ষে ১ হাজার কোটি টাকা হতে হবে বলে কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
৬. বিএসইসিতে যথাযথভাবে নিবন্ধিত স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি এবং ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কোম্পানিগুলোও এই সুবিধার আওতায় থাকবে।
৭. এ ছাড়া শেয়ারবাজার ও অর্থনীতির সার্বিক স্বার্থে কমিশন যদি মনে করে, তবে অন্য যে কোনো স্বনামধন্য কোম্পানিকেও এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতাভুক্ত করতে পারবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইপিওর দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল নিয়মাবলির বাইরে গিয়ে সরাসরি তালিকাভুক্তির এই সুযোগ দেশের কর্পোরেট খাতে নতুন গতির সঞ্চার করবে এবং ভালো কোম্পানিগুলোকে বাজারে আসতে দারুণভাবে উৎসাহিত করবে।
























