প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় কমানো এবং জাপানের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেট্রোরেলের ব্যয় ও ঋণের সুদ কমানোর উদ্যোগ
ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় ৮৩ শতাংশ এবং এমআরটি লাইন-৫-এর ব্যয় ১১৩ শতাংশ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রকল্পের ব্যয় কমানো এবং জাপানের ঋণের সুদের হার হ্রাস নিয়ে আলোচনা হবে কি না, সংবাদ সম্মেলনে জানতে চান সাংবাদিকেরা।
জবাবে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, অবকাঠামো নির্মাণে জাপানের কাছে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে সহযোগিতার বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা হবে।
ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের কাছ থেকেই কম সুদে ঋণ পেতে চায়। তবে এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। এসব নিয়ে আলোচনা হবে, তবে চূড়ান্ত ফলাফল আলোচনার পর জানা যাবে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গুরুত্ব
বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক বর্তমানে কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রসচিব। এই অংশীদারত্বের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে আশা করছে সরকার।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দেশটি মেট্রোরেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে সহযোগিতা করছে।
এবারের সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
২৬ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
চার দিনের সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের দ্বিতীয় দিনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেবেন তিনি।
সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ, জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশনের চেয়ারম্যান, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশনের গভর্নর এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের সভাপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন।
পররাষ্ট্রসচিবের মতে, এই সফরের মাধ্যমে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, উন্নয়ন সহায়তা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী যারা
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জাপান যাবেন।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান প্রতিনিধিদলে থাকবেন।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এই সফরে অংশ নেবেন।























