আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানাতে যাচ্ছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ। ওই দিন বিকাল পৌনে ৩টায় কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হবে।ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত অর্থবছরে অর্থাৎ ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত বছরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ৬৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এবার ডিভিডেন্ডের পরিমাণ কত হয়, সেটিই এখন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। কারণ চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৯ টাকা ৯৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১৫ টাকা ২ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৪ টাকা ৯২ পয়সা।
একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ কার্যকরী প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২৯ টাকা ৫২ পয়সায়। আগের বছরের একই সময়ে এ প্রবাহ ছিল ২৬ টাকা ১৬ পয়সা। ফলে শেয়ারপ্রতি নগদ কার্যকরী প্রবাহ বেড়েছে ৩ টাকা ৩৬ পয়সা।
অন্যদিকে, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৩৯ টাকা ১০ পয়সা।
ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ১৯৮৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
কোম্পানিটির মোট ৩ কোটি ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৬২৭টি শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৪৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ২৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার।
ডিভিডেন্ডের ইতিহাসেও ধারাবাহিকতা রয়েছে কোম্পানিটির। ২০২১ সালে ৪৭ শতাংশ, ২০২২ ও ২০২৩ সালে ৬০ শতাংশ করে এবং ২০২৪ সালে ৬৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস। সর্বশেষ ২০২৫ অর্থবছরে নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হয় ৬৪ শতাংশ।
এদিকে মঙ্গলবার ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ৩১৫ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। বাজার তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারটির পিই রেশিও ১১ দশমিক ৮৬।
ফলে ৩০ সেপ্টেম্বরের বোর্ড সভায় কোম্পানিটি কত শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে শেয়ারহোল্ডারদের। বিশেষ করে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ইপিএস ও নগদ কার্যকরী প্রবাহ বৃদ্ধির পর এবার লভ্যাংশের সিদ্ধান্ত কী হয়, সেটিই হবে সভাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
























