ঢাকা   বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কেনাকাটায় আসক্তির ৭ লক্ষণ, মিলিয়ে দেখুন আপনার সঙ্গে কতটি

কেনাকাটা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১:৩৪, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

কেনাকাটায় আসক্তির ৭ লক্ষণ, মিলিয়ে দেখুন আপনার সঙ্গে কতটি

নতুন কিছু কিনলে মন ভালো হয়—এটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু প্রয়োজন না থাকলেও বারবার কেনাকাটা করা, সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে টাকা খরচ করা কিংবা কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত কেনাকাটার প্রবণতাকে কম্পালসিভ বায়িং ডিসঅর্ডার বলা হয়। প্রচলিতভাবে একে ‘শপাহলিক’ বলেও ডাকা হয়।

নিজের আচরণের সঙ্গে নিচের সাতটি লক্ষণের কতগুলো মিলে যায়, তা খেয়াল করুন।

১. শপিং অ্যাপে ঘণ্টার পর ঘণ্টা

স্মার্টফোনে কয়েক ক্লিকেই এখন পোশাক, প্রসাধনী থেকে শুরু করে খাবার কিংবা প্রয়োজনীয় নানা পণ্য কেনা যায়। কিন্তু আপনি যদি দিনের দীর্ঘ সময় বিভিন্ন শপিং অ্যাপ, অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পণ্য দেখতে কাটান এবং প্রায়ই অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে ফেলেন, তাহলে নিজের অভ্যাসটি নিয়ে ভাবা দরকার।

২. সামর্থ্যের চেয়ে বেশি খরচ

‘এখন কিনি, পরে টাকা দিয়ে দেব’—এমন চিন্তা যদি প্রায়ই কাজ করে, তাহলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে ধার বা ঋণ করে কেনাকাটা করা এবং এর ফলে সঞ্চয় বা দৈনন্দিন খরচে চাপ তৈরি হওয়া অনিয়ন্ত্রিত কেনাকাটার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে।

৩. কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা

একটি জিনিস কেনার পর কিছুক্ষণের জন্য ভালো লাগলেও আবার নতুন কিছু কেনার ইচ্ছা তৈরি হচ্ছে? প্রয়োজন না থাকলেও নিজেকে থামাতে পারছেন না? বারবার এমন ঘটলে কেনাকাটার অভ্যাসটি আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে কি না, তা ভেবে দেখা উচিত।

৪. মন খারাপ হলেই কেনাকাটা

রাগ, হতাশা, একাকিত্ব বা মন খারাপের সময় কেনাকাটাকে যদি নিয়মিতভাবে নিজের মন ভালো করার উপায় হিসেবে ব্যবহার করেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। কারণ সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার জন্য কেনাকাটা করতে করতে এটি ধীরে ধীরে একটি অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।

৫. অর্ডার করার পর অস্থিরতা

অনলাইনে কিছু অর্ডার করার পর সেটি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত অস্থির লাগছে? বারবার ফোন হাতে নিয়ে অর্ডারের অবস্থান দেখছেন কিংবা সারাক্ষণ পণ্যটি নিয়ে ভাবছেন? এমন আচরণও অতিরিক্ত কেনাকাটার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

৬. অব্যবহৃত জিনিসের স্তূপ

আলমারি খুললেই এমন পোশাক, জুতা বা অন্যান্য পণ্য চোখে পড়ে, যেগুলো প্রয়োজন ভেবে কিনেছিলেন, কিন্তু কখনো ব্যবহারই করেননি? ঘরে যদি এমন অব্যবহৃত জিনিসের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে, তাহলে আপনার কেনাকাটার প্রয়োজনীয়তা ও অভ্যাস দুটোই পর্যালোচনা করা দরকার।

৭. ঘুম বাদ দিয়ে কেনাকাটা

রাতে ঘুমানোর সময়ও শপিং অ্যাপ ঘাঁটছেন, নতুন পণ্যের খোঁজ করছেন কিংবা কোনো অফার হাতছাড়া হয়ে যাবে—এমন চিন্তায় ঘুমাতে পারছেন না? কেনাকাটার কারণে ঘুম ও দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে সেটিও সতর্ক হওয়ার মতো বিষয়।

কেনাকাটার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে যা করতে পারেন

কেনাকাটার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—

  • ফোন থেকে অপ্রয়োজনীয় শপিং অ্যাপ সরিয়ে ফেলুন।
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পণ্য বা বিজ্ঞাপন দেখার সময় সীমিত করুন।
  • প্রয়োজন ও শখের কেনাকাটার মধ্যে পার্থক্য করুন।
  • কিছু কেনার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—এটি সত্যিই প্রয়োজন, নাকি শুধু মুহূর্তের ইচ্ছা?
  • কেনাকাটার জন্য নির্দিষ্ট বাজেট রাখুন এবং তা অতিক্রম না করার চেষ্টা করুন।
  • অব্যবহৃত জিনিস অন্যকে দান বা পুনর্ব্যবহার করার ব্যবস্থা করুন।
  • কেনাকাটার বদলে হাঁটা, বই পড়া, ভ্রমণ বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো বিকল্প কাজে মন দিন।

‘শপাহলিক’ শব্দটি প্রচলিত হলেও এটি নিজে কোনো আনুষ্ঠানিক রোগ নির্ণয়ের নাম নয়। তবে কেনাকাটার অভ্যাস যদি ঋণ, আর্থিক সংকট, সম্পর্কের সমস্যা, অপরাধবোধ বা দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত তৈরি করে, তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন হলে পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য, বন্ধু বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

সর্বশেষ