ঢাকা   বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সর্দি-কাশি থেকে বাঁচতে যা করবেন, কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

স্বাস্থ্য

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১:২৭, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

সর্দি-কাশি থেকে বাঁচতে যা করবেন, কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়তে পারে সর্দি-কাশির প্রকোপ। সাধারণ সর্দি-কাশি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে হয়। রাইনোভাইরাসসহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস এর জন্য দায়ী হতে পারে। সাধারণত গুরুতর জটিলতা ছাড়াই কয়েক দিনের মধ্যে এ সমস্যা কমে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

যেভাবে সংক্রমণ ছড়ায়

আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে বের হওয়া ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে সর্দি-কাশির ভাইরাস ছড়াতে পারে। পাশাপাশি ভাইরাসযুক্ত কোনো বস্তু স্পর্শ করে অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক বা মুখে হাত দিলেও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শেও ভাইরাস ছড়াতে পারে।

ঠান্ডা বা ধুলাবালিপূর্ণ পরিবেশে থাকলে সরাসরি সর্দি-কাশির ভাইরাস তৈরি হয়—এমন নয়। তবে এসব পরিবেশে শ্বাসতন্ত্রের অস্বস্তি বাড়তে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও পরিস্থিতিভেদে বাড়তে পারে।

সাধারণ লক্ষণ কী কী?

সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা দিতে পারে—

  • নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • বারবার হাঁচি
  • গলা ব্যথা বা গলা শুকিয়ে যাওয়া
  • শুকনো কিংবা কফযুক্ত কাশি
  • মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথা
  • হালকা জ্বর
  • চোখ দিয়ে পানি পড়া বা চোখ লাল হওয়া
  • ক্লান্তি ও দুর্বলতা

কখনো ভাইরাসজনিত সংক্রমণের পর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও হতে পারে। তবে শুধু কফের রং পরিবর্তন হলেই যে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

আরাম পেতে যা করতে পারেন

সাধারণ সর্দি-কাশি অনেক সময় নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। এ সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। গলা ব্যথা বা অস্বস্তি কমাতে কুসুম গরম পানি দিয়ে গার্গল করা যেতে পারে। নাক বন্ধ থাকলে উষ্ণ বাষ্প কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সাময়িক আরাম দিতে পারে।

কাশিতে মধু কিছুটা উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক ও এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে। তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া উচিত নয়।

জ্বর বা শরীর ব্যথায় প্রয়োজন অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। নাক বন্ধ বা অ্যালার্জিজনিত উপসর্গে কিছু ওষুধ উপকারী হলেও সেগুলো বয়স, শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য ওষুধের ওপর নির্ভর করে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সাধারণ ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশিতে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিশ্চিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হয়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

সর্দি-কাশির সঙ্গে নিচের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—

  • শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
  • বুকে ব্যথা
  • দীর্ঘসময় ধরে বা বেশি মাত্রার জ্বর থাকা
  • অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • কাশি দীর্ঘদিন ধরে না কমা
  • উপসর্গ ভালো হওয়ার পর আবার হঠাৎ বেড়ে যাওয়া
  • শিশুর ক্ষেত্রে খাওয়া বা পানিতে অনীহা, দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা অতিরিক্ত নিস্তেজ হয়ে পড়া

সংক্রমণ এড়াতে যা করবেন

সর্দি-কাশি থেকে সুরক্ষিত থাকতে নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া জরুরি। অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন। হাঁচি বা কাশির সময় টিস্যু কিংবা কনুই দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন এবং ব্যবহৃত টিস্যু যথাযথভাবে ফেলে দিন।

আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নেওয়া এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

মনে রাখতে হবে, সাধারণ সর্দি-কাশি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গুরুতর নয়। তবে উপসর্গ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বা শ্বাসতন্ত্রের জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

সর্বশেষ