টানা দরপতনের পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ও চট্টগ্রাম—দুই শেয়ারবাজারেই সূচক ও লেনদেনে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। পাশাপাশি লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। এতে সাম্প্রতিক দরপতনের পর বাজারের গতিপথ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দরপতনের সময়ে ভালো মৌলভিত্তির কিছু শেয়ার তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পরবর্তীতে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে এসব শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের মুনাফার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
এর আগে সোমবার স্বাভাবিক দর সংশোধনের পর মঙ্গলবার সূচকের মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন হয়। এর পর বুধবার বাজারে স্পষ্ট ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক বাড়ার পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেনও বেড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ধারাবাহিক দরপতনের নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও এর সময়ে কিছু ভালো শেয়ার অপেক্ষাকৃত কম দামে কেনার সুযোগ তৈরি হয়। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এসব শেয়ারের দর বাড়তে পারে। তবে কোনো শেয়ারের ভবিষ্যৎ মুনাফা নিশ্চিত নয় এবং বাজারের গতিপথ বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হতে পারে।
তাদের মতে, বুধবারের ইতিবাচক প্রবণতা যদি ধারাবাহিক হয়, তাহলে সাম্প্রতিক পতনের সময়ে তুলনামূলক কম দামে কেনা শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের লাভের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে বাজারের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি আরও জোরদার করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইর তিন সূচকেই উত্থান
বুধবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৫ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৯৬ দশমিক ২১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
একই দিন ডিএসইর শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস ১০ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১৯ দশমিক ৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক ১৬ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১২২ দশমিক ৭২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৫টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৪৬টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে ১০২টির দর কমেছে এবং ৩৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
৫৩ কোটি টাকা বাড়ল লেনদেন
সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বুধবার দিনশেষে ডিএসইতে প্রায় ৮৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
এর আগের দিন মঙ্গলবার লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৯১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ফলে এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৫৩ কোটি ২১ লাখ টাকা।
সিএসইতেও ইতিবাচক চিত্র
ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বুধবার সূচক ও লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
এদিন সিএসইতে মোট ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন মঙ্গলবার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
বুধবার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০১টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। বিপরীতে ৫৮টির দর কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৫ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮৯১ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে সূচকটি ৬ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমেছিল।
সব মিলিয়ে বুধবার দুই শেয়ারবাজারের সূচক, লেনদেন এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের দরবৃদ্ধিতে যে ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে, তা সাম্প্রতিক দরপতনের পর বাজারের পরবর্তী গতিপথের দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর আরও বাড়িয়েছে।
























