ঢাকা   বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিসেম্বরেই লেনদেন নিষ্পত্তিতে নতুন ব্যবস্থা আনছে ডিএসই

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৩১, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

ডিসেম্বরেই লেনদেন নিষ্পত্তিতে নতুন ব্যবস্থা আনছে ডিএসই

শেয়ারবাজারের লেনদেন ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে স্ক্রিপ্ট নিটিং ও টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর লক্ষ্যেও কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডিএসইতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

ডিএসই এমডি বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নতুন কোনো ব্যবস্থা বা পণ্য চালুর ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

স্ক্রিপ্ট নিটিং ও টি+১ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে নুজহাত আনোয়ার বলেন, এ দুটি বিষয় নিয়ে ডিএসই ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে বিএসইসির প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নির্দেশনাও পাওয়া যাচ্ছে। সব প্রস্তুতি শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যবস্থা দুটি চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর বিষয়েও বিএসইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ডিএসই এমডি। তবে এ ধরনের পণ্য চালুর আগে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও আর্থিক সাক্ষরতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

শিল্প খাতের শ্রেণিবিন্যাস ও ক্যাটাগরাইজেশনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানান নুজহাত আনোয়ার। ডিএসই বোর্ডের অনুমোদনের পর এ বিষয়ে বিএসইসির সঙ্গে আলোচনা করা হবে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেনেও নতুন ব্যবস্থা আনছে ডিএসই। ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য আলাদা একটি ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ চলছে। ডিএসই এমডির আশা, নতুন এই প্ল্যাটফর্ম চালু হলে বিভিন্ন মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা ও রিডেম্পশন প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং বাজারে শৃঙ্খলা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়তা করবে।

বিএসইসির বর্তমান নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য আলাদা মডিউল তৈরির কাজ চলছে। আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি এটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ডিএসই এমডি।

বন্ড মার্কেট উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন মূল্য ও চার্জ প্রায় ৮০ শতাংশ কমানো হয়েছে। ভবিষ্যতে বাজারে আসা বন্ডগুলো যাতে মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ডিএসই এমডি বলেন, বন্ড মার্কেটের এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। কিছু বন্ডকে মূল বোর্ডে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বন্ড মার্কেটে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সেকেন্ডারি মার্কেটে তাদের বন্ড লেনদেন বাড়াতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

শেয়ারবাজারের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে নাসডাকের নতুন সফটওয়্যারভিত্তিক ম্যাচিং ইঞ্জিন চালুর প্রকল্পও হাতে নিয়েছে ডিএসই। ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে নতুন এই ব্যবস্থা লাইভে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। নুজহাত আনোয়ার বলেন, এটি একটি বড় প্রকল্প হলেও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়া ডিএসইর ডিজাস্টার রিকভারি বা ডিআর ব্যবস্থা ডিসেম্বরের মধ্যে আপডেট করার চেষ্টা চলছে। পুঁজিবাজারের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোকে আরও জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ করতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য সফটওয়্যার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে টি+১ ও স্ক্রিপ্ট নিটিং চালু, মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম, বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণ, আর্থিক ডেরিভেটিভস এবং নতুন ম্যাচিং ইঞ্জিন—এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের শেয়ারবাজারের লেনদেন, নিষ্পত্তি ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা করছে ডিএসই।

সর্বশেষ