ঢাকা   শুক্রবার ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

২২ বছর মহাকাশে থাকার পর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ধ্বংস নাসার সুইফট টেলিস্কোপ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:২৩, ৬ নভেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

২২ বছর মহাকাশে থাকার পর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ধ্বংস নাসার সুইফট টেলিস্কোপ

দীর্ঘ ২২ বছর মহাকাশে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানোর পর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে ধ্বংস হয়েছে নাসার সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ। বুধবার (৪ নভেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা অঞ্চলের আকাশে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর ঘর্ষণের ফলে এর বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যায়। মহাবিশ্বের শক্তিশালী গামা-রে বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা টেলিস্কোপটির এভাবেই সমাপ্তি ঘটল।

২০০৪ সালে প্রায় ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড ওজনের সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ মহাকাশে পাঠায় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এর মূল লক্ষ্য ছিল মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলোর অন্যতম গামা-রে বার্স্ট শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা। পাশাপাশি বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তু নিয়েও গবেষণা চালিয়েছে এটি।

ইউএস স্পেস ফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা অঞ্চলের ওপর দিয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে টেলিস্কোপটি। বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণের কারণে এর অধিকাংশ অংশ পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

সৌর কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল প্রসারিত হয়েছিল। এতে সুইফটের মতো নিম্ন কক্ষপথে থাকা উপগ্রহের ওপর বায়ুমণ্ডলীয় বাধা বেড়ে যায়। ফলে টেলিস্কোপটির কক্ষপথ দ্রুত নিচে নেমে আসে।

এর আগে গত আগস্টে সুইফটকে রক্ষা করতে প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয়ে একটি উদ্ধারকারী মহাকাশযান পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছিল নাসা। পরিকল্পনা ছিল, মহাকাশযানটির সাহায্যে টেলিস্কোপটিকে আরও উঁচু কক্ষপথে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

নাসার প্রশাসক জারেড আইজ্যাকম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, সুইফট মিশন মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের জানার পরিধি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই টেলিস্কোপ দুই হাজারের বেশি গামা-রে বার্স্ট এবং ১ হাজার ৪০০টি বিস্ফোরিত তারা শনাক্ত করেছে। পাশাপাশি ধূমকেতু, গ্রহাণু ও কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে।

সুইফট মিশনের সঙ্গে যুক্ত পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী জন নৌসেক বলেন, টেলিস্কোপটি উৎক্ষেপণের আগে থেকেই বিজ্ঞানীরা জানতেন, একদিন এর মিশনের সমাপ্তি ঘটবে। তাঁর ভাষায়, নিম্ন কক্ষপথে থাকা কোনো বস্তু ওপরে ওঠার পর একসময় নিচে নেমে আসবেই, আর সেই সমাপ্তি ধ্বংসাত্মক হতে পারে।

সুইফট টেলিস্কোপের অন্যতম বিশেষত্ব ছিল মহাকাশে কোনো বিস্ফোরণ শনাক্ত করার পর খুব দ্রুত সেই উৎসের দিকে ঘুরে পর্যবেক্ষণ শুরু করার সক্ষমতা। এ কারণে হাবল ও জেমস ওয়েবের মতো শক্তিশালী টেলিস্কোপগুলোর গবেষণার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছে।

দীর্ঘ ২২ বছরের এই অভিযানে সংগৃহীত তথ্য মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে ভবিষ্যতেও বিজ্ঞানীদের কাজে আসবে।

সূত্র: ডেইলি মেইল।

সর্বশেষ