ঢাকা   শনিবার ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

১৭ কোটি টাকা ব্যবহারে সন্দেহ, কৃষিবিদ সিড ও ওয়েব কোটসের অর্থ ব্যয়ের তদন্তে বিএসইসি

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৫৩, ৭ নভেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

১৭ কোটি টাকা ব্যবহারে সন্দেহ, কৃষিবিদ সিড ও ওয়েব কোটসের অর্থ ব্যয়ের তদন্তে বিএসইসি

শেয়ারবাজার থেকে কিউআইওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা প্রায় ১৭ কোটি টাকা কোথায় এবং কীভাবে খরচ করেছে—তা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তদন্তের আওতায় এসেছে এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত কৃষিবিদ সিড ও ওয়েব কোটস। কোম্পানি দুটির বিরুদ্ধে অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের সন্দেহ তৈরি হওয়ায় আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কমিশন। গত ২ নভেম্বর এ কমিটি গঠন করা হয়।

কোম্পানি দুটি যোগ্য বিনিয়োগকারী প্রস্তাব বা কিউআইও পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোট ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে কৃষিবিদ সিড সংগ্রহ করে ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ওয়েব কোটস ৫ কোটি টাকা। ব্যবসা সম্প্রসারণ, ঋণ পরিশোধ, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণে এসব অর্থ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কোম্পানি দুটি। তবে নির্ধারিত খাতেই অর্থ ব্যয় হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, কৃষিবিদ সিডের অর্থ ব্যবহারের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিশনের উপপরিচালক মওদুদ মোমেন ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রুমান হোসেনকে। অন্যদিকে ওয়েব কোটসের তদন্ত করবেন কমিশনের যুগ্ম পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক ফারহানা ওয়ালেজা।

কমিশনের তদন্ত আদেশে বলা হয়েছে, কিউআইওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ যে উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা নির্ধারিত খাতেই ব্যয় হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। এ জন্য কোম্পানি দুটির দাখিল করা আর্থিক বিবরণী পরীক্ষা করার পাশাপাশি অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে বাস্তবে কোনো প্রকল্প গ্রহণ, সম্পদ ক্রয় বা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে কি না, তা সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কিউআইওর অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে শনাক্ত করার পাশাপাশি কোম্পানি দুটির ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত লেনদেনও পরীক্ষা করবে তদন্ত কমিটি। অর্থ কোন পথে এবং কাদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে তদন্ত দলকে।

তদন্তে অর্থ ব্যবহারে কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকাও চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে এসব অনিয়মের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন, বিধিবিধান কিংবা বিএসইসির নির্দেশনার কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোম্পানি দুটির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিব, নিরীক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের দায়দায়িত্বও সুনির্দিষ্টভাবে খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।

শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কৃষিবিদ সিড ২০২২ সালে শেয়ারবাজারের এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয়। অন্যদিকে ওয়েব কোটস তালিকাভুক্ত হয় ২০২৪ সালে। তালিকাভুক্তির অনুমোদন পাওয়ার আগে কোম্পানি দুটি কিউআইওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ কোন খাতে কত টাকা এবং কত সময়ের মধ্যে ব্যয় করবে, সে বিষয়ে বিএসইসির কাছে পরিকল্পনা জমা দিয়েছিল। এখন সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থের ব্যবহার হয়েছে কি না, সেটিই তদন্তের মূল বিষয়।

সর্বশেষ