ডিভিডেন্ড মৌসুম শেষ হতেই দেশের শেয়ারবাজারে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। এতদিন ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকলেও এখন উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। আর্থিক ও ব্যবসায়িক অবস্থান দুর্বল এমন অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে। বিপরীতে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে দেখা যাচ্ছে না প্রত্যাশিত গতি। বাজারের এই অসংগতিপূর্ণ প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কারসাজির আশঙ্কা তৈরি করছে।
ডিভিডেন্ড মৌসুমকে কেন্দ্র করে সাধারণত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে। এ সময়ে ভালো মৌলভিত্তির ও নিয়মিত ডিভিডেন্ড দেওয়া কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের প্রবণতা দেখা যায়। তবে ডিভিডেন্ড মৌসুম শেষ হওয়ার পর বাজারের চিত্রে এসেছে পরিবর্তন। তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক বাজারচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দুর্বল আর্থিক অবস্থার অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে। অথচ ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর শেয়ারে সেই তুলনায় গতি নেই। ফলে কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ও শেয়ারের বাজারদরের মধ্যে একধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারের দাম বাড়ার পেছনে কোম্পানির আয়, মুনাফা, সম্পদ ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনার প্রতিফলন থাকা জরুরি। কিন্তু এসব মৌলিক সূচকের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে কোনো কোনো শেয়ারের দাম বাড়লে তা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ ধরনের প্রবণতার পেছনে কারসাজি বা সংঘবদ্ধভাবে শেয়ারের দাম প্রভাবিত করার চেষ্টা রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে নির্দিষ্ট কোম্পানি, লেনদেনের তথ্য কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত ছাড়া একে নিশ্চিতভাবে কারসাজি বলা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিভিডেন্ড মৌসুম-পরবর্তী এই নতুন সমীকরণে বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। শুধু শেয়ারের দাম বাড়ছে দেখে বিনিয়োগ না করে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, মুনাফা, ঋণের পরিমাণ ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারিও বাড়ানো প্রয়োজন।
























