ঢাকা   সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাড্ডা সেন্টারে হামলা: জড়িতদের খুঁজে না পাওয়াকে ‘রহস্যজনক’ বললেন জামায়াত আমির

রাজনীতি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:০৪, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

রাড্ডা সেন্টারে হামলা: জড়িতদের খুঁজে না পাওয়াকে ‘রহস্যজনক’ বললেন জামায়াত আমির

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের এখনো শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না করায় প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, হামলার পেছনে বর্তমান সরকারি দলের নেতা-কর্মী ও ‘গডফাদারদের’ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

আজ সোমবার বিকেলে হামলার ঘটনাস্থল রাড্ডা সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন তিনি। তিন দিন আগে রাতে সেন্টারটিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুই থেকে আড়াই শ লোক এই অপকর্ম করল, তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না? দীর্ঘ সময় ধরে করল, তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না? এগুলো সব রহস্যজনক।’

হামলার পেছনে বর্তমান সরকারি দলের লোকজন, নেতা ও ‘গডফাদারদের’ হাত থাকতে পারে—এমন ধারণা মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘মানুষ ধারণা করতে বাধ্য হচ্ছে, এর পেছনে বর্তমান সরকারি দলের লোকদের, নেতাদের, গডফাদারদের হাত আছে।’

রাড্ডা সেন্টারের নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, অর্ধশতাব্দী ধরে মানুষের সেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তায় শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো দুর্বৃত্ত সেখানে হামলা চালানোর সুযোগ না পায়, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সেন্টারের কার্যক্রম পুনরায় চালুর জন্য প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন শফিকুর রহমান। তিনি জানান, সেন্টারের ছয় সদস্যের ট্রাস্টি বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। অনুদানের অর্থ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা আংশিক সংস্কার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনে মা ও শিশুদের সেবা কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করা হবে।

এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির। গত কয়েক দিনে ঢাকায় ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি মোহাম্মদপুরে বাড়ি দখলের জন্য অস্ত্র হাতে হামলার অভিযোগ এবং ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার কথা উল্লেখ করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কারও সম্পদে ‘গুন্ডা-সন্ত্রাসীরা’ হামলা বা দখলের চেষ্টা করবে—এমন সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। অপরাধীর দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে তাকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে আমার দলের লোক তো দূরের কথা, আমি নিজেও যদি জড়িত থাকি—আমাকে যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্ষমা না করে, আমাকেও যেন আইনের আওতায় নেয়।’

সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অপকর্ম করার সাহস কেউ করবে না।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘গাছের গোড়ায় কেটে মাথায় পানি দেবেন, আপনারা এটা জনগণ দেখতে চায় না। সর্পদংশন করে ওঝার নাটক আমরা দেখতে চাই না।’

সর্বশেষ