বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তাঁর দাবি, যাত্রীচাহিদা এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সম্প্রসারণের প্রয়োজন বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির।
বাইরের কোনো চাপের কারণে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন ধারণা নাকচ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরের প্রয়োজনীয়তা যাত্রীচাহিদা ও ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘একটি উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই বোয়িং কেনা হয়েছে। যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প–হোয়াইট হাউসের নির্দেশে চারজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বোয়িং কিনেছি।’
বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই বোয়িংয়ের বড় উড়োজাহাজ ব্যবহার করে আসছে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, দেশের বিমানবহরে বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজের সমন্বয়ে একটি মিশ্র বহর প্রয়োজন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সময় ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর আগে গত এপ্রিলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল।
আগের চুক্তির আওতায় ১৪টি উড়োজাহাজের বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। নতুন করে চুক্তি হওয়া ১১টি উড়োজাহাজের দাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আরও বড় এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে বিমানবহর সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এই একবিংশ শতাব্দীতে রুট বাড়াতে হলে এবং এভিয়েশন হাব হতে হলে আমাদের মিশ্র বহর লাগবে। বাংলাদেশের প্রাপ্ত বিমানের বহর আরও অনেক বাড়ানো দরকার। এখানে কোনো লুকায়িত এজেন্ডা নেই। এটি সম্পূর্ণ আমাদের প্রয়োজনের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং খোলামেলাভাবেই আপনাদের জানানো হয়েছে।’
প্রয়োজনে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে পারে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, যাত্রীসেবার মান বাড়ানো এবং একটি ক্রমবর্ধমান এভিয়েশন হাব হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে বিমানবহর সম্প্রসারণ প্রয়োজন।
এদিকে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমানের ফ্লাইট পুনরায় চালু করা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির জানান, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে কারিগরি মূল্যায়ন চলছে।
তিনি বলেন, কারিগরি সমস্যার কারণে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটের কার্যক্রম স্থগিত হয়েছিল। রুটটি পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
























