ঢাকা   সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এনভয় টেক্সটাইলস ও এপেক্স ফুটওয়্যারের লভ্যাংশ ঘোষণা, একটির নগদে জোর অন্যটির বোনাসে

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৪, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১২:৩২, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এনভয় টেক্সটাইলস ও এপেক্স ফুটওয়্যারের লভ্যাংশ ঘোষণা, একটির নগদে জোর অন্যটির বোনাসে

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র ও চামড়া খাতের দুই কোম্পানি এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড ও এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে এনভয় টেক্সটাইলস শুধু নগদ লভ্যাংশ দিলেও এপেক্স ফুটওয়্যার নগদ ও বোনাস—দুই ধরনের লভ্যাংশই ঘোষণা করেছে। ফলে দুই কোম্পানির লভ্যাংশের ধরন ও আগের বছরের আর্থিক পারফরম্যান্সের তুলনায় ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

এনভয় টেক্সটাইলসের ৩২.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, ২০২৫-২৬ হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ২৪ পয়সা। আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ হিসাববছরে ইপিএস ছিল ৮ টাকা ৪০ পয়সা। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় সর্বশেষ বছরে কোম্পানিটির ইপিএস ১৬ পয়সা কমেছে।

তবে আয়ের এই সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতার বিপরীতে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লোতে বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। আলোচিত বছরে শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ১৪ টাকা ৮৮ পয়সা, যেখানে আগের বছর তা ছিল মাত্র ৪ টাকা ৭৭ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লো প্রায় তিন গুণের বেশি বেড়েছে।

এদিকে, গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৬০ টাকা ৩৩ পয়সা।

এনভয় টেক্সটাইলসের ঘোষিত ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশকে কোম্পানিটির সাম্প্রতিক আর্থিক তথ্যের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ইপিএস কিছুটা কমলেও নগদ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে, আগের বছর শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা ৭৭ পয়সা ক্যাশ ফ্লোর বিপরীতে এবার ১৪ টাকা ৮৮ পয়সা হওয়া নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে লভ্যাংশের পরিমাণ মূল্যায়নে কোম্পানির আয়, নগদ প্রবাহ, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং শেয়ারদর—সবগুলো বিষয়ই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ৫ ডিসেম্বর হাইব্রিড পদ্ধতিতে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ২৬ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এপেক্স ফুটওয়্যারের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ

অন্যদিকে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চামড়া খাতের কোম্পানি এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ কোম্পানিটি মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে, যার অর্ধেক নগদ এবং অর্ধেক বোনাস।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, আলোচিত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ৯১ পয়সা।

এদিকে, গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৩৫৫ টাকা ৩৫ পয়সা।

এপেক্স ফুটওয়্যারের লভ্যাংশ কাঠামো এনভয় টেক্সটাইলসের তুলনায় ভিন্ন। এনভয় টেক্সটাইলস যেখানে পুরো ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ নগদে দিচ্ছে, সেখানে এপেক্স ফুটওয়্যার ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ বোনাস দিচ্ছে। ফলে নগদ প্রাপ্তির দিক থেকে এনভয় টেক্সটাইলসের ঘোষণাটি বেশি হলেও এপেক্স ফুটওয়্যারের ঘোষণায় নগদের পাশাপাশি শেয়ারসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তবে শুধু লভ্যাংশের শতাংশ দিয়ে দুই কোম্পানির লভ্যাংশ নীতি বা বিনিয়োগকারীদের জন্য এর প্রভাব বিচার করা যথেষ্ট নয়। কারণ বোনাস লভ্যাংশে বিনিয়োগকারীর হাতে অতিরিক্ত শেয়ার এলেও কোম্পানি থেকে নতুন করে নগদ অর্থ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে নগদ লভ্যাংশ সরাসরি শেয়ারহোল্ডারের হাতে অর্থ প্রদান করে।

এপেক্স ফুটওয়্যারের এনএভিপিএস ৩৫৫ টাকা ৩৫ পয়সা, যা এনভয় টেক্সটাইলসের ৬০ টাকা ৩৩ পয়সার তুলনায় অনেক বেশি। তাই দুই কোম্পানির লভ্যাংশের হার তুলনা করার সময় তাদের শেয়ার মূলধন, শেয়ারের অভিহিত মূল্য, বাজারদর, মুনাফা ও সম্পদের ভিত্তিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ১৫ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।

তুলনায় যা দেখা যাচ্ছে

দুই কোম্পানির সর্বশেষ ঘোষিত লভ্যাংশের দিকে তাকালে এনভয় টেক্সটাইলস ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়ে পুরোটা নগদে রেখেছে। অন্যদিকে এপেক্স ফুটওয়্যার মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও এর মধ্যে নগদ ১৫ শতাংশ এবং বোনাস ১৫ শতাংশ।

অর্থাৎ ঘোষিত লভ্যাংশের মোট শতাংশে এনভয় টেক্সটাইলস সামান্য এগিয়ে এবং নগদ লভ্যাংশের ক্ষেত্রে ব্যবধান আরও স্পষ্ট। তবে এপেক্স ফুটওয়্যারের ক্ষেত্রে বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের হাতে থাকা শেয়ারের সংখ্যা বাড়বে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো বিনিয়োগকারীর কাছে ১০০টি শেয়ার থাকলে ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশের ক্ষেত্রে তিনি ১৫টি অতিরিক্ত শেয়ার পাবেন। একইভাবে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের অর্থ হলো, প্রতি ১০০ টাকার অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ১৫ টাকা নগদ পাওয়ার হিসাব। অন্যদিকে ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের ক্ষেত্রে একই ভিত্তিতে নগদ প্রাপ্তির পরিমাণ হবে ৩২ টাকা ৫০ পয়সা।

তবে প্রকৃত নগদ প্রাপ্তি নির্ভর করবে বিনিয়োগকারীর হাতে থাকা শেয়ারের সংখ্যা ও কোম্পানির নির্ধারিত অভিহিত মূল্যের ওপর। একইভাবে বোনাস শেয়ার পেলেই বিনিয়োগকারীর মোট বিনিয়োগের মূল্য একই অনুপাতে বেড়ে যাবে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই; বোনাসের পর শেয়ারের সংখ্যা ও বাজারদর সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকে।

সব মিলিয়ে, এনভয় টেক্সটাইলসের ক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় ইপিএস সামান্য কমলেও শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লো উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং কোম্পানিটি পুরো লভ্যাংশ নগদে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এপেক্স ফুটওয়্যার ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ বোনাস মিলিয়ে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার ফলে দুই কোম্পানির লভ্যাংশ নীতিতে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনটি বেশি উপযোগী হবে তা নির্ধারণে শুধু লভ্যাংশের হার নয়, বরং কোম্পানির আয়, নগদ প্রবাহ, সম্পদমূল্য, শেয়ারদর ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনাও পাশাপাশি বিবেচনা করা প্রয়োজন।