বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী। অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
রিজভী বলেন, নারীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা হলে এর সুফল শুধু একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রও এর সুফল পায়। নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখা সম্ভব।
তিনি জানান, নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ স্নাতক বা অনার্স পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর মতে, নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
রিজভী বলেন, একটি দেশের অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি শিক্ষা। শিক্ষাকে গুরুত্ব না দিলে কোনো জাতিই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে না।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে শিক্ষাব্যবস্থায় নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর প্রভাব পড়েছে পুরো জাতির ওপর।
রিজভীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কোনো শিক্ষার্থী খাতায় উত্তর না লিখেও পাস করার জন্য সুপারিশ পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় গড়ে তোলার ওপর জোর দেন রিজভী। তিনি বলেন, শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে শিক্ষার্থীদের সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক বিশ্বের উপযোগী করে তাদের প্রস্তুত করতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে বিনিয়োগ ও প্রণোদনা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের সুযোগ তৈরি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থাকে গড়ে তোলার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
























