ঢাকা   রোববার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বিএনপিসহ ১১ দলের মতবিনিময় শুরু, জামায়াত-এনসিপিসহ বিরোধীদের অংশগ্রহণ নেই

রাজনীতি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৬:২৩, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

বিএনপিসহ ১১ দলের মতবিনিময় শুরু, জামায়াত-এনসিপিসহ বিরোধীদের অংশগ্রহণ নেই

জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে সংবিধান সংশোধন নিয়ে মতবিনিময় শুরু করেছে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হওয়া এ আলোচনায় বিএনপিসহ কয়েকটি দল অংশ নিলেও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বিরোধী জোটের কয়েকটি দল এতে যোগ দেয়নি।

রোববার বেলা আড়াইটায় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অংশ নেন। এ ছাড়া গণ অধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, এনডিএম, আমজনতার দল, ইসলামী ঐক্যজোট, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণফোরাম ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটির সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন। কমিটির আলোচ্যসূচিতে রয়েছে—‘জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কমিটির মতবিনিময়’। এর আগে সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি দল ও জোটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের দুজন করে প্রতিনিধিকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

গত ৪ আগস্ট বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে রাজনৈতিক দল ছাড়াও সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবার রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হচ্ছে। কমিটির পক্ষ থেকে দল ও জোটের প্রতিনিধিদের সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরতে বলা হয়েছে।

কেন অংশ নিচ্ছে না বিরোধী দল

সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। বিরোধী দল জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ওই পরিষদ গঠন না করায় তারা সংসদের বিশেষ কমিটির প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সংসদে প্রতিনিধিত্ব না থাকা শরিক দলগুলোর মধ্যেও বিশেষ কমিটির মতবিনিময়ে অংশ নেওয়ার আগ্রহ নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর বাইরে আরও কয়েকটি দলও আলোচনায় অংশ না নেওয়ার অবস্থানে রয়েছে।

সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠনের সময়ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সংসদে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব থাকলেও বিরোধী দল তাদের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি আসনে প্রতিনিধি দেয়নি। পরে ১৩ জুলাই ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।

জুলাই সনদে ২৬ দল ও জোটের স্বাক্ষর

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়। ওই প্রক্রিয়ায় মোট ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোট সনদে স্বাক্ষর করে। সনদে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে।

সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ও ক্ষমতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, সংসদের উচ্চকক্ষ, নারী প্রতিনিধিত্ব এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। এসব প্রস্তাবের কয়েকটিতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমতও নথিভুক্ত আছে।

বিশেষ কমিটির কাজ কী

সংসদের বিশেষ কমিটি শুধু জুলাই সনদের প্রস্তাব নয়, বিদ্যমান সংবিধানের বিভিন্ন বিধানও পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সংবিধান সংশোধন নিয়ে যেসব প্রস্তাব রয়েছে, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিটি। এরপর অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সুপারিশ তৈরি করে তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

বিশেষ কমিটি গঠনের পর থেকেই সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে আজকের মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া দলগুলোর বক্তব্য এবং অংশ না নেওয়া দলগুলোর অবস্থান—দুই দিকই পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সর্বশেষ