ঢাকা   বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউপি নির্বাচনে বাড়ল জামানত, থাকছে নতুন প্রতীক ও ব্যয়ের সীমা

রাজনীতি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:০১, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

ইউপি নির্বাচনে বাড়ল জামানত, থাকছে নতুন প্রতীক ও ব্যয়ের সীমা

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার খরচ ও শর্তে বড় পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি জামানত ফেরত পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের হারও বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট প্রতীক রাখা হয়েছে।

ইসির সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জামানত এখন ২৫ হাজার টাকা। সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে প্রার্থীদের জামানত নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। আগে চেয়ারম্যান পদে জামানত ছিল ৫ হাজার টাকা এবং সদস্য পদে ১ হাজার টাকা।

জামানত ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত যুক্ত হয়েছে। কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। এর আগে এক-অষ্টমাংশ ভোট পেলেই জামানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ ছিল।

থাকছে যেসব প্রতীক

ইউপি নির্বাচন এবার নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। সংশোধিত বিধিমালায় দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদের জন্য আলাদা প্রতীক রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আইন ও প্রতীকসংক্রান্ত তথ্যও ইউপি নির্বাচনের জন্য পৃথক প্রতীক তালিকা প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

চেয়ারম্যান পদের জন্য নির্ধারিত প্রতীকগুলো হলো—কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিলঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবিট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।

সংরক্ষিত সদস্য পদের প্রতীকগুলো হলো—আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।

সাধারণ সদস্য পদের জন্য রয়েছে—উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চলাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।

বাড়ল চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়সীমা

সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয়ের সীমাও বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ব্যয়ের সুযোগ ছিল, এখন তা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে সদস্য প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা ২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

প্রার্থিতা বাতিল ও ভোট বাতিলের ক্ষমতা

নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও বিধিমালায় যুক্ত করা হয়েছে।

কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে গুরুতরভাবে প্রভাবিত হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া নির্বাচনী কাজে গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা দিলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

ফলে নতুন বিধিমালায় ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত, ভোটের ন্যূনতম সীমা, নির্বাচনী ব্যয়, প্রতীক এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সর্বশেষ