সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিচ পদত্যাগ করেছেন। প্রায় দুই বছর ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই রোববার প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। তবে ভুসিচের পদত্যাগের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটছে না; বরং আগামী ২৫ অক্টোবরের আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভুসিচ বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর দায়িত্বের শেষ সন্ধ্যা এটি। তিনি জানান, পরদিন তাঁর দায়িত্ব পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচের কাছে হস্তান্তর করবেন। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।
ভুসিচের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট মেয়াদ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। সংবিধান অনুযায়ী তিনি তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। তাই আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে তাঁর সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) সরকার গঠন করতে পারলে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যেই তিনি এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন
ভুসিচের পদত্যাগের সময় সার্বিয়ায় দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলন নতুন রাজনৈতিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর উত্তরাঞ্চলীয় শহর নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনের কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। শিক্ষার্থীরা ঘটনার জন্য জবাবদিহি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে আসছে।
এই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে দেশটির কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটিতে রূপ নেয়। বিভিন্ন সময়ে লাখো মানুষ এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন। সরকার অবশ্য বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের একটি অংশ এবার সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ‘স্টুডেন্টস উইন’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত প্রার্থী তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অধ্যাপক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। তাঁদের ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে দুর্নীতির তদন্ত, অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা বাড়ানোর বিষয় রয়েছে।
২৫ অক্টোবর পার্লামেন্ট নির্বাচন
আগামী ২৫ অক্টোবর সার্বিয়ায় আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর ভুসিচ পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে এই নির্বাচনের ঘোষণা দেন। মূলত ২০২৭ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক উত্তেজনা ও দীর্ঘস্থায়ী বিক্ষোভের মধ্যে আগাম ভোটের আয়োজন করা হচ্ছে।
ভুসিচ ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী অথবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর পদত্যাগের পর এখন পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন—দুই প্রক্রিয়াই দেশটির রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদ শূন্য হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। ভুসিচ জানিয়েছেন, বছরের শেষ নাগাদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এদিকে ছাত্র আন্দোলনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ভুসিচের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি—দুই ঘটনাই আগামী নির্বাচনকে সার্বিয়ার রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। তবে নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
























